ভান্ডারিয়ার মাদক ব্যবসায়ীর ৭ বছর কারাদন্ড
পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সামছুল হক এর আদালত বুধবার দুপুরে জেলার ভান্ডারিয়ার একটি মাদক মামলায় একাধিক মাদক মামলার আসামী ইকবাল মল্লিককে ৭ বছরের সশ্রম করাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের করাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন।
দন্ডপ্রাপ্ত পালাতক আসামী ইকবাল মল্লিক ভান্ডারিয়া উপজেলার লক্ষীপুরা গ্রামের রুস্তুম মল্লিকের ছেলে। আদালত অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় ইকবাল মল্লিকের স্ত্রী তামান্না বেগম, জামিরতলা গ্রামের সেফাতুল শরীফ,মামুন শরীফ, বকতিয়ার শরীফ, লক্ষীপুরা গ্রামের রাজীব মল্লিক ও ঝালকাঠী জেলা রাজাপুর থানার নলবুনিয়া গ্রামের সাগরসহ মোট ৬ জন পালাতক আসামীকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন। অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. জহুরুল ইসলাম এ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে ভান্ডারিয়ার লক্ষীপুরার রুস্তুম আলী মল্লিকের ছেলে ইকবাল মল্লিকের ঘরে ফেনসিডিল আছে এমন খবর পেয়ে জেলা ডিবি পুলিশের এসআই আনোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘিরে ফেলেন। এ সময় ইকবাল মল্লিক পুলিশের উপস্থিতি দেখে বস্তা ভর্তি ফেনসিডিল বড় বালতিতে ভরে পাটাতনে উঠে তাতে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মূহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে ঘরের বেশীর ভাগ অংশ পুড়ে যাওয়ার সময় সুযোগ বুঝে ইকবাল মল্লিকসহ অন্যান্যরা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে। এসময় অভিযান পরিচালনাকারী ডিবি পুলিশ সদস্যরা, খবর পেয়ে আসা ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং স্থানীয়রা সম্মিলিতভাবে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। ডিবি পুলিশ এসময় ঘটনাস্থল থেকে ইকবালের স্ত্রী তামান্না বেগমকে গ্রেফতার করে এবং ৪০ বোতল অক্ষত ও কিছু অংশ পুড়ে যাওয়া ৬৫ বোতল ফেনসিডিলসহ আলামত উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের এসআই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ভান্ডারিয়া থানায় ৭ জনের নামে মামলা করলে তদন্ত শেষে চার্জশীট দেয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. জহুরুল ইসলাম এবং আসামী পক্ষে আহসানুল কবীর বাদল মামলা পরিচালনা করেন।
