প্রধান সূচি

কোরবানির পশুর হাট

ভান্ডারিয়ায় প্রস্তুত খামারিদের ২ হাজার পশু

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় কোরবানির পশুর হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছে। ঈদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় খামারি ও প্রান্তিক চাষিরা দেশীয় ও সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু-ছাগল লালন-পালন করে এবার বাজারের বড় অংশ দখলের আশায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য মতে, এবার উপজেলায় কোরবানির জন্য ২ হাজার ৩৪টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া কোরবানিকে ঘিরে উপজেলার বাইরে বিভিন্ন এলাকা থেকেও হাটগুলোতে কোরবানির পশু আসবে।
প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৩৯৯টি গরু, ৬৩০টি ছাগল ও ৫টি মহিষ। পৌরসভা, ধাওয়া, ভিটাবাড়িয়া, নদমূলা-শিয়ালকাঠীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ছোট-বড় বাণিজ্যিক খামার এবং গৃহস্থ পরিবারগুলোতে পশু প্রস্তুতের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার ভান্ডারিয়ায় গবাদিপশু মোটাতাজাকরণের হার বেড়েছে। উপজেলার স্থানীয় চাহিদার তুলনায় পশুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত পশু পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলার হাটে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, খামারি ও চাষিদের ব্যস্ততাও তত বাড়ছে। পশুর শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা, স্বাস্থ্য ঠিক রাখা এবং নিয়মিত গোসল করানো নিয়ে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। তবে গোখাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় দু:শ্চিন্তাও রয়েছে তাদের মধ্যে।
ভান্ডারিয়ার অন্যতম বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘জে কে ডেইরি ফার্ম’ এ গিয়ে দেখা গেছে, শ্রমিক ও কর্মচারীরা পশুর সেবাযতেœ ব্যস্ত।
খামারের দায়িত্বে থাকা মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, আমরা পশুকে মোটাতাজা করতে কোনো কৃত্রিম পদ্ধতি ব্যবহার করি না। খৈল, ভুট্টা, কাঁচা ঘাস ও খড়ের মতো প্রাকৃতিক খাবারই দেওয়া হয়। আমাদের খামারে বর্তমানে শতাধিক গরু রয়েছে, এর মধ্যে কোরবানির বাজারের জন্য ৩২টি গরু পুরোপুরি প্রস্তুত।
উত্তর শিয়ালকাঠী গ্রামের খামারি শামসুল হক হাওলাদার বলেন, ভুষি, খৈল ও ওষুধের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে পশু লালন-পালনে অনেক খরচ হয়েছে। তবে পশুর স্বাস্থ্য ও গড়ন ভালো হয়েছে। বাজারে ন্যায্য দাম পেলে লাভবান হতে পারব।
পৌরসভার জামিরতলা গ্রামের খামারি মাসুম হাওলাদার বলেন, আমরা কোনো ক্ষতিকর ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার করিনি। প্রাণিসম্পদ অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী কাঁচা ঘাস, খড় ও ভুষি খাইয়েই পশু বড় করেছি। গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় কষ্ট হয়েছে, তবুও যতœ করে পশু প্রস্তুত করেছি। এখন ভালো দাম পেলেই পরিশ্রম সার্থক হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুদেব সরকার জানান, প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কঠোর নজরদারির কারণে এবার কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণে কোনো ক্ষতিকর হরমোন, স্টেরয়েড বা রাসায়নিক ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তারা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন-পালন করেছেন। ফলে বাজারে সুস্থ, সবল ও নিরাপদ পশু সরবরাহ নিশ্চিত হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial