ভান্ডারিয়ায় গভীর রাতে হত্যা মামলার আসামীর বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের পাতলাখালী গ্রামের আবু সালেহ হত্যা মামলার প্রধান আসামী সুমন হাওলাদারের বসতবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেশী মোদাচ্ছের মৃধা জানান, শনিবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দুর্বৃত্তরা মৃত আলী আকবর হাওলাদারের ছেলে সুমন হাওলাদার ও রুমান হাওলাদারের বাড়ির চারদিক দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের বিকট শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। এসময় ওই বাড়ীতে কোন লোক ছিল না। ভস্মিভূত বাড়ীটির ১০ ফুটের মধ্যে তার বাড়ী। তার ছেলে ফোরকান মৃধা স্ত্রী, সন্তান নিয়ে যে ঘরটিতে ঘুমিয়ে ছিল মুহুর্তের মধ্যে সেটিতে আগুন ধরে যায়। অল্পের জন্য তার ছেলে ও নাতী নাতনী প্রাণে বেঁচে যান। এলকাবাসী জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে অগ্নিকান্ডের সংবাদ দিলে রাত ২টার দিকে ভান্ডারিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে প্রায় একঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষনে সুমন হাওলাদার এর বাড়ীটি পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেশী মোদাচ্ছের মৃধার বাড়ীটিরও আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
সুমন হাওলাদার এর ভাই রুমান হাওলাদার গভীর রাতে ফেসবুক লাইভে এসে নিজেকে ছাত্রদল নেতা দাবী করে এ ঘটনার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ তথা তাদের প্রতিপক্ষকে দায়ী করেছেন। আবু সালেহ হত্যাকান্ডের পর থেকে ওই বাড়িটি ফাঁকা পড়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য, জমি ও বালু ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৫ মার্চ রাতে ভান্ডারিয়া উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের পাতলাখালী গ্রামের আব্দুল খালেক হাওলাদারের ছেলে আবু সালেহ হাওলাদার (৩৭)কে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এসময় তার ভাই আবুল বাশার রুবেল এর একটি পা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে প্রতিপক্ষ। এ ঘটনায় ২৫ মার্চ রাতে নিহতের ছোট বোন বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামী করে ভান্ডারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ হত্যা মামলার আসামী সুমন হাওলাদারসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে।
