নাজিরপুরে অবৈধ গ্যাস কারখানা : নিরাপত্তাহীনতায় স্থানীয় বাসিন্দারা
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার জনবহুল এলাকা মাটিভাঙ্গা কলেজ মোড় সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে চলছে একটি গ্যাস কারখানা। সরকারি নীতিমালা শর্ত লঙ্ঘন করে গ্যাস কারখানার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দে অভিযোগ, মাটিভাংগা পুলিশ ফাঁড়ির নাকের ডগায় এমন অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন মো. রফিক ওরফে কাটা রফিক নামের এক আওয়ামী লীগের ব্যক্তি। কিন্তু রহস্যজনকভাবে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বিগত দিনে উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম বাবুলকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে এ অবৈধ কারখানা চালিয়ে আসছিল মো, রফিক। বর্তমানে স্থানীয় বিএনপি নেতা নুরে আলমের ছত্রছায়ায় রমরমাভাবে এ অবৈধ কারখানাটি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
অভিযোগ পেয়ে সোমবার বিকেলে সাংবাদিকরা কারখানায় গেলে দ্রæত সটকে পড়েন কারখানার মালিক ও শ্রমিকেরা। এসময় কারখানাটি অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয়রা।
বিষয়টি উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রসানশনকে অবগত করলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট জাকির হোসেন, সেনাবাহিনীর টহল টিম, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের টিম। তারা আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
কারখানা ঘুরে বিভিন্ন ব্রান্ডের স্টিকার ও খালি গ্যাস সিলিন্ডার ক্যাপসহ নানা ধরণের উপকরণ দেখা যায়। এসব উপকরণ স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ লিপু শরীফের জিম্মায় রাখেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের স্বার্থে স্থানীয় জনতাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট জাকির হোসেন এবং কারখানা মালিক রফিককে উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করার জন্য নির্দেশ দেন।
শরিফুল আলম নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, আমার ৯ শতক জমি দখল করে নিয়ে গেছে কারকানার মালিক কাটা রফিক। আমার বাড়ির যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে গ্যাসের সিলিন্ডার রেখে দিয়েছে। জনবসতি এলাকায় ভিতরে গ্যাস কারখানা কারণে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কয়েকবার এখানে আগুন ধরেছে পুড়ে গেছে। আমার গাছ কেটে নিয়ে গেছে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরে আলমের নেতৃত্ব কিছু দুষ্কৃতিকারী। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতা নুরে আলম কারখানার বিষয়ে তার সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেন।।
বাদশা মিয়া নামের আরেক ব্যক্তির ১ শতক ও সবুর মিয়ার ৩ শতক জমি জোর করে দখল নিয়েছে রফিক। সবুর ও বাদশা মিয়া বলেন, গায়ের জোরে গ্যাস ব্যবসায়ী কাটা রফিক আমাদের জমি দখল করে নিয়েছে। রফিকের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে সে তাদের হুমকি দেয়।
স্থানীয় গ্যাস ব্যবসায়ী আসাদ শেখ জানান, কাটা রফিক যখন গ্যাসের ব্যবসা শুরু করে তখন আমি তাকে সব কিছু চিনিয়েছি। কিন্তু তার কারণে এখন ব্যবসা করতে পারি না। আমাদের চেয়ে গ্যাসের দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা কম নেয় এবং কাটা রফিক গ্যাসের সিলিন্ডার কেটে বিক্রি করে। সে ওজনে গ্যাস কম দেয় এবং এখানে বসে গ্যাস সিলিন্ডারে ভার্ত করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত-দিন এখানে ট্রাক থেকে সিলিন্ডার আনলোড করা হয়, শব্দে ঘুমাতে পারি না। এখানে কয়েকবার আগুন লেগেছে। গ্যাসের গন্ধে থাকা কষ্টের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি বলেন, কাটা রফিক এখানে অবৈধভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছে। সে কয়েকটি মামলার আসামী। এই কাটা রফিক শুন্য থেকে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে ।
অভিযোগের ব্যাপারে গ্যাস কারখানা মালিক মো. রফিকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি খুলনাতে আছেন বলে জানিয়ে ফোন কেটে দিয়ে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট জাকির হোসেন বলেন, অভিযুক্ত রফিক একজন গ্যাস ব্যবসায়ী। একটি গ্যাস কোম্পানীর ডিলার। তবে তিনি বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাস বিক্রি করেন। খালি সিলিন্ডারগুলো নিজের মত করে রিফেল করে বিভিন্ন কোম্পানির ট্যাগ লাগিয়ে বিক্রি করে চলছেন, এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। তার যদি লাইসেন্স থাকে সে অনুসারে গ্যাস এনে বিক্রি করতে পারবেন. কিন্তু এখানে গ্যাস রিফিল করার কোনো সুযোগ নেই। এখানে অনেক খালি সিলিন্ডার এবং গ্যাস রিফিল করার যন্ত্রপাতি পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।
