প্রধান সূচি

ভান্ডারিয়ায় ২৫ দিনেও খোঁজ মেলেনি ৩ সন্তানের জননীর

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার চরখালী গ্রামের মৎস্যজীবি শহিদুল হাওলাদারের স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী শিমু আক্তার (৩০) গত ২৭ নভেম্বর নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজের ২৫ দিন অতিবাহিত হলেও তার কোন খোঁজ মিলছে না। এ ঘটনায় গত ২৯ নভেম্বর তার মা হনুফা বেগম ভান্ডারিয়া থানায় একটি ডায়েরী করেছেন।
নিখোঁজ শিমু আক্তারের মা হনুফা বেগম জানান, ৮বছর পূর্বে চরখালী গ্রামের মৎস্যজীবি শহিদুল ইসলামের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। স্বামীর বাড়ীতে ৩টি শিশু সন্তান নিয়ে সংসার করছিল (দুইটি ছেলে ইব্রাহিম (৩) আবদুল্লাহ (২) ও মেয়ে আমিনা-৭)। গত ২৭ নভেম্বর ভোর থেকে তার মেয়ে শিমু আক্তার নিখোঁজ হয়। মেয়ে নিখোঁজের বিষয়টিও তার শ^শুর বাড়ী থেকে জানানো হয়নি বলে তিনি জানান। এত ছোট ছোট বাচ্চাদের রেখে কোথাও চলে যাওয়ার মেয়ে নয় সে। তার সঙ্গে খারাপ কিছু করা হয়েছে। নিখোঁজের ২৫ দিন পরেও মেয়ের খোঁজ না পেয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
হনুফা বেগম বলেন, শিমুর বাবা নেই, ওরা তিন বোন। এ ঘটনার পূর্বে গত ১৩ নভেম্বর সে তার বড় মেয়ের বাড়ী বাগেরহাটে বেড়াতে গেলে তার ছোট মেয়ের জামাতা শহিদুল ইসলাম তাদের ঘর-বাড়ি ভেঙে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পরে বহু কষ্টে জীবন যাপন করে আসছি। এর মধ্যেও মেয়ের জামাতা শহিদুল এর নামে সব জমি লিখে দিতে তাকে এবং তার মেয়েকে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল এবং বিভিন্নভাবে ক্ষতিসাধন করে। এর আগে শহিদুল তার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা ধার নিয়েছে আর ফেরত দেয়নি। শহিদুল ক্ষিপ্ত হয়ে তার মেয়ের সঙ্গে খারাপ কিছু ঘটাতে পারে বলে তিনি দাবী করেন। এর আগে একাধিকবার তার ওপর নির্যাতন করেছে শহিদুল।
নদমূলা-শিয়ালকাঠী ইউপি চেয়ারম্যান মো. মেজবা উদ্দীন আরিফ গৃহবধূ নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের লোক দিয়ে ওই গৃহবধূর খোঁজ করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিখোঁজ শিমু আক্তারের স্বামী মো. শহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী নিঁেখাজের কথা স্বীকার করে বলেন, ইতিপূর্বে একাধিকবার তার স্ত্রী চলে গিয়েছিলেন আবার ফিরে এসেছেন। একবার চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টেসে ৮ মাস চাকুরী করে তারপরে ফিরে এসেছেন। তার শ^শুর বাড়ী ভেঙে আনার বিষয়ে বলেন, ওই ঘর-বাড়ী তার টাকায় নির্মান করা হয়েছিল। শ^শুরবাড়ী জমি বাবদ তার শ্বাশুরীকে সে ৩১ হাজার টাকা দিয়েছেন। তার বড় বোনের কাছে চট্টগ্রামে তার স্ত্রী আত্মগোপন করে থাকতে পারে।
এ ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভান্ডারিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মো. কাইউম জানান, এ ঘটনায় বেতার বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ-খবর নেয়া অব্যাহত রয়েছে। খোঁজ পেলেই ওই পরিবারসহ গণমাধ্যম কর্মীদেরকেও জানানো হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial