প্রধান সূচি

অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর ও নানা অধিকার অর্জনে আমরা পাকিস্তান আমলে লড়াই করে ছিলাম : আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

জাতীয় পার্টি (জেপি)’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে আমরা পাকিস্তান আমলে লড়াই করে ছিলাম। সে লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। স্বাধীনতা লাভের ৫০ বছর পরও উন্নয়নের স্বাদ মানুষ প্রত্যাশিত পর্যায়ে গ্রহণ করতে পারেনি।
শনিবার বিকেলে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলা জেপি নেতা-কর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ৫০ বছরে দেশে আরও পরিবর্তন হতে পারতো। এ সময়কালে অন্যায়-অবিচার-দুর্নীতি দূর করা কাঙ্খিতমাত্রায় হয়নি। উন্নয়নের প্রকৃত স্বাদ মানুষ পায়নি। রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, বিদ্যুৎ এসব হচ্ছে অবকাঠামোগত পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের সদ্ব্যবহার করে অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা লাভ তথা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে উন্নয়নের পরিচায়ক। নিয়োগ পরীক্ষা দেয়ার পর যখন চাকুরী প্রার্থীদের সুপারিশ, উৎকোচ, ততবির ইত্যাদি উপর যখন নির্ভর করতে হয় তখন তরুণ প্রজন্ম হতাশায় ভোগে। এ অবস্থার পরিত্রাণ প্রয়োজন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমরা ৩৬ বছর ধরে অব্যহতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে ভান্ডারিয়াকে একটি উন্নয়নমূখী জনপদে রূপ দিতে পারছি। বিগত সরকারের সময় ভান্ডারিয়া সফরকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মো. মোশাররফ হোসেন ভান্ডারিয়া শহরকে একটি জেলা শহরের সাথে তুলনা করেছেন। তখন তিনি বলেছিলেন, এখানে স্থানীয় সরকার খাতে দুই হাজার কোটি টাকা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভান্ডারিয়ায় অতীতকাল থেকে চলমান উন্নয়ন কাজের কথা জানেন এবং বলেন। স্বভাবতই তিনি যখন ক্ষমতায় থাকেন তখন দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন গতিময় হয়। শেখ হাসিনা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বলেই এলাকার জনগণ কাঙ্খিত উন্নয়নের স্বাদ পায়। ভাণ্ডারিয়ায় আমরা সকলে মিলে কাজ করি বলে এখানে যেমন উন্নয়নধারা বহমান তেমনি এখানকার মানুষ সুখে-শান্তিতে থাকে। এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণে মারপিট-খুনোখুনি, ঝগড়া-বিবাদ-কাইজ্যা বর্জন করে একটি সুখী সমাজ ব্যবস্থা আমরা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছি। বিগত ৩৬ বছরে রাজনীতি এবং ১৮ বছরের বিভিন্ন সময়ের মন্ত্রীত্বকালে আমরা যা বলেছি তার উদ্দেশ্য ছিলো মানুষকে শান্তি দেয়া, স্বস্তি দেয়া। ১৮ বছর ধরে কিভাবে মন্ত্রীত্ব করা সম্ভব এরকম অস্টেলিয়ার একজন মন্ত্রীর প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলাম আল্লারহ হুকুমে এ কাজ করেছি। আল্লাহর হুকুম থাকলে এলাকার মানুষের মধ্যে একতা ও উন্নয়ন আকাঙ্খা থাকলে মানুষের কল্যাণে নীতি-নৈতিকতার সাথে কাজ করা সম্ভব হয়। উন্নয়নের জন্য, কাজের জন্য নৈতিকতা থাকা বাঞ্চিনীয়। আমাদের এই কাজ অনেক সুদূর প্রসারী এবং পথ দীর্ঘ। সকল প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নয়নের প্রতি পরিচালিত করা গেলে জীবনমানের পরিবর্তন হবেই।
মতবিনিময় সভায় উপজেলা জেপি’র আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল হক মনি জোমাদ্দারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহিবুল হোসেন মাহিম, পৌর কাউন্সিলর ও উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান মৃধা, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান টুলু, গৌরপুরীরের ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক মেজবাহ উদ্দিন আরিফ জোমাদ্দার, পৌর জেপি’র আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন মিয়া স্বপন, ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন যুবসংহতির সভাপতি মতিউর রহমান বুলবুল শরীফ, উপজেলা যুবসংহতির সদস্য সচিব মামুনুর রশীদ সরদার, ছাত্রসমাজের উপজেলা আহ্বায়ক সালাউদ্দিন রাহত জোমাদ্দার, যুবসংহতির নেতা বাহাদুর সরদার, নাসির সরদার, ফিরোজ আলম মুন্সী, ছাত্রসমাজের পৌর আহ্বায়ক মাহাবুব শরীফ প্রমুখ।
এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা পার্টি’র (জেপি) সভানেত্রী আসমা আক্তার, জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল হাই হাওলাদার, উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ আলী আকন, জেপি নেতা মোশাররফ হোসেন সেন্টু মোল্লা প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মো. মোস্তফা সিকদার ও মিঠু বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ভান্ডারিয়া শাহাবুদ্দিন সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. ফারুক হোসেন।
পরে জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি’র পক্ষে জেপির উপজেলা সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলার ১নং ভিটাবাড়িয়া, ২নং নদমুল্লা, ৩নং তেলিখালী ও ৫নং ধাওয়া ইউনিয়নের জাতীয় পার্টি (জেপি) মনোনীত বাইসাইকেল মার্কার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। প্রার্থীরা হলেন ধাওয়ায় সিদ্দিকুর রহমান টুলু, গৌরীপুরে মজিবুর রহমান চৌধুরী, নদমূলা-শিয়ালকাঠিতে মেজবাহ উদ্দিন আরিফ জোমাদ্দার, ভিটাবাড়িয়ায় মতিউর রহমান বুলবুল শরীফ ও তেলিখালীতে মো. শাহ আলম হাওলাদার। এসময় দলের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি’র কাছ থেকে প্রার্থীরা তাদের দলীয় মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial