প্রধান সূচি

ভান্ডারিয়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ

জেলার ভান্ডারিয়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালের বারান্দায়ও মিলছেনা বেড। প্রায় দেড়মাস ধরে দিনে রাতে ভান্ডারিয়া হাসপাতালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ভান্ডারিয়া হাসাপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড ছাড়াও হাসপাতালের বারান্দায়ও বয়স্ক, শিশু, কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ রোগীদের বেড মিলছেনা। ডাক্তার সংকটের কারণে রোগীদের সেবায় কর্তব্যরত ডাক্তার ও সেবিকাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত শনিবার একদিনে ভর্তি হয়েছে ৬৬ জন। প্রায় দেড় মাস ধরে গড়ে প্রতিদিন ৩৫/৪০ জন রোগী আসছে হাসপাতালে। তাদের মধ্যে যারা কম আয়ের তারা ভর্তি হচ্ছে। আর স্বচ্ছল রোগীরা উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা বা বিভাগীয় সরকারি হাসপাতাল বা বেসরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে ছুটছে। যারা ভান্ডারিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে তাদের সেবা নিশ্চিত করতে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সেবিকারা রোগীদের সেবা দানে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে দেখা গেছে বেশ কয়েকজনকে।

এদিকে, ১৫ মাসের এক রোগীর বাবা উপজেলার উত্তর পৈকখালীর বাসিন্দা রিক্সা চালক এনায়েত হোসেন তালুকদার অভিযোগ করেন ৪ দিন হাসপাতালে রাখলেও তার শিশু পুত্রের জন্য হাসপাতাল থেকে কোন ওষুধ দেয়া হয়নি। তিনি ৯শ’ টাকার ওষুধ বাইরে থেকে কিনে ৪ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়িতে নিয়ে যায়।

সোমবার ভান্ডারিয়া হাসপাতালের সরেজমিনে গেলে দেখা যায় রোগীদের স্যালাইন দেয়া হলেও অন্য ওষুধ বাইরে থেকে কেনা। এ বিষয়ে কর্তব্যরত সেবিকারা রোগীদের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমাদের পক্ষ থেকে ডাইরিয়ার স্যালাইন, খাবার স্যালাইন, সিপ্রোসিন, এজিথ্রোমাইসিন, ম্যাট্রোজেন সরবরাহ করছি পর্যাপ্ত পরিমানে। তবে ম্যাট্রোজেন ট্যাবলেট থাকলেও ইনজেকশন নেই বলেও জানান তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিবার কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, প্রায় দেড়মাস ধরে অতিরিক্ত ভিড় থাকলে আমরা রোগীদের সেবা দিতে কোন প্রকার কার্পন্যতা করি নেই। তিনি আরো জানান, তাপমাত্রা দিনে দিনে বৃদ্ধির কারণে পানিজনিত কারণে এ ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের অঞ্চলের পানি অতিরিক্ত লবনাক্ত থাকায় প্রায় দেড় মাস ধরে এ ধরনের রোগে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স, ওষুধ আছে কিনা জানতে চাইলে বর্তমানে ডাক্তার সংকটের কথা বলে জানান, ৩১ শয্যার জন্য ১০ জন ডাক্তার এবং ৫০ শয্যার জন্য ১৭ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ৫০ শয্যার হাসপাতালে আমিসহ ডাক্তার আছে ৫ জন। ওষুধ এর বিষয়ে বলেন, আমরা ডায়রিয়া স্যালাইন ৫ হাজার এবং খাবার স্যালাইন ২৫ হাজার ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ওষুধের চাহিদাপত্র উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial