প্রধান সূচি

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় জালিয়াতির মাধ্যমে দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপনের অভিযোগ

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় ভূয়া কাগজপত্র ও তথ্য প্রদান এবং জালিয়াতির মাধ্যমে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, দাখিল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে নতুন করে একটি কেন্দ্র স্থাপিত হওয়ায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। কোন পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে হবে তা নিয়েও দেখা দিয়েছে
নতুন নির্ধারিত হওয়া বিপিএম দাখিলা মাদ্রাসার ওই কেন্দ্রটির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ এনে আজ শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভান্ডারিয়া উপজেলার উপজেলার ৯টি মাদ্রসার অধ্যক্ষ ও সুপার।
লিখিত বক্তব্য তেলিখালী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রসার অধ্যক্ষ নূর উদ্দিন মো. বাশির খান অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে সম্পূর্ণ জালিয়াতির মাধ্যমে এবং মিথ্যা তথ্য প্রদান করে এবং মাদ্রাসা বোর্ড কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে বিপিএম দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. আমির হোসেন গোপনে নতুন কেন্দ্রটির অনুমোদন করিয়েছেন। নতুন স্থাপিত কেন্দ্রটির ১ থেকে ১.৫ কিলোমিটারের মধ্যে আল্ গায্যালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় আরেকটি দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র থাকলেও তথ্য প্রদান করার সময় তারা উল্লেখ করেন যে, বিপিএম দাখিল মাদ্রাসার ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে অন্য কোন দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্র নেই।
এছাড়া নতুন অনুমোদিত পরীক্ষা কেন্দ্রটির যাতায়াত ব্যবস্থাসহ অন্যন্য সুবিধাদি অপ্রতুল। নতুন পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ওই প্রতিষ্ঠানের যে সংখ্যক শিক্ষার্থী থাকা প্রয়োজন তা বিপিএম দাখিল মাদ্রাসায় নাই বলেও দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। নতুন কেন্দ্রটি বাতিলের জন্য ইতোমধ্যে মাদ্রাসা বোর্ড, পিরোজপুর জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলেও জানান তারা।
জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নতুন সৃষ্ট বিপিএম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রটি বাতিল করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার সুপার ও অধ্যক্ষবৃন্দ।
অভিযোগের ব্যাপারে নতুন অনুমোদিত দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রটির সুপার আমির হোসেন জানান, আল্ গায্যালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় পরীক্ষা দিতে গিয়ে অন্যান্য মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। তাই অনেক মাদ্রাসার প্রধানরা সেখানে পরীক্ষার্থীদের পাঠাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তাদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শে তিনি তার প্রতিষ্ঠানে দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপনের জন্য আবেদন করেন। তবে তার প্রতিষ্ঠানের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে অন্য কোন পরীক্ষা কেন্দ্র নেই সে বিষয়টি সত্য নয় বলেও স্বীকার করেন তিনি। আমির হোসেন জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের দেয়া ডিও লেটারে বিষয়টি তার অজ্ঞাতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া নতুন পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের অন্য যে সব তথ্য প্রদান করা হয়েছে তা সবই সঠিক। এর মধ্যে কোন জালিয়াতির বিষয় নেই। তার দাবী আল্ গায্যালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী কমে যাবে এই আশংকায় ওই মাদ্রসার প্রধান বিভিন্ন দপ্তরে তাদের (নতুন অনুমোদিত) কেন্দ্রটি বাতিল করার জন্য অভিযোগ দিয়েছেন।
এদিকে, অভিযোগকারী মাদ্রাসা সুপার ও অধ্যক্ষদের দাবী প্রভাবশালী এক ব্যক্তির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় স্থানীয় এমপিকে ভুল বুঝিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে বিপিএম দাখিল মাদ্রাসায় নতুন পরীক্ষা কেন্দ্রের অনুমোদন করানো হয়েছে।
ভান্ডারিয়ায় গত বছর দুইটি কেন্দ্রে ৩৮টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এ বছর কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৩টি। নতুন সৃষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রে এ বছর ১১টি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিবে বলে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভান্ডারিয়ার দক্ষিণ রাজপাশা বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুস সবুর, আতরখালী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এম.ডি. নজির আহমেদসহ উপজেলার ৯টি মাদ্রাসার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন করে একটি কেন্দ্র স্থাপিত হওয়ায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। কোন পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে হবে তা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা শংকা। কেননা নতুন করে অনুমোদিত হওয়া বিপিএম মাদ্রাসায় কেন্দ্র স্থাপিত হওয়ার আগে বেশীরভাগ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আল্ গায্যালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়ার জন্য ফরমফিলাপ করেছিলেন। তাই আগামী ২ ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হওয়া দাখিল পরীক্ষায় তাদের কোন কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে হবে সে বিষয়ে শংকা দেখা দিয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial