ভোটের মাধ্যমে দেশে নির্বাচন ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে … আনোয়ার হোসেন মঞ্জু
জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান ও পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কেন্দ্রে গিয়ে সবার ভোট দেয়া নাগরিক দায়িত্ব। ভোটের মাধ্যমে দেশে নির্বাচন ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন অটুট ও অব্যহত রাখতে সকলের ভোটে অংশ গ্রহণের কোন বিকল্প নেই।
তিনি গতকাল শনিবার বিকালে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগ ও জেপি আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। পিরোজপুর-২ আসনে (ভান্ডারিয়া-কাউখালী-ইন্দুরকানি) ১৪দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি-জেপি’র প্রার্থী হিসাবে তাঁর নির্বাচনী প্রতীক বাইসাইকেল মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ভোট দেয়া জনগণের মৌলিক অধিকার। নাগরিকরা তাদের পছন্দসই প্রার্থীকে ভোট দেবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে এ ক্ষেত্রে পছন্দ-অপছন্দ নির্ধারণ ক্ষেত্রে তাদের ভাবতে হবে কার মাধ্যমে বা কাদের দ্বারা দেশের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে। শুধু শ্লোগান দিয়ে বা নেতিবাচক রাজনীতি দিয়ে পাকিস্তান আমলের মত রাজপথ গরম করলে স্বাধীন দেশের মানুষের স্বার্থ বা পাওনা আদায় হয় না। দেশের মানুষকে উন্নয়ন ভোগ করতে হলে এমন প্রার্থীকে পছন্দ করতে হবে যার দ্বারা বা যাদের দ্বারা তার অধিকার আদায় হয়। দেশের ১৫/১৬ কোটি মানুষের জন্য বছরে যে খাদ্যের প্রয়োজন তা আমরাই উৎপাদন করি। এখন আর বিদেশের উপর নির্ভর করতে হয় না। এটাই হচ্ছে দেশের উন্নয়ন ধারার পরিচায়ক। রাস্তা-ঘাট নির্মাণ, বিদ্যুতায়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রেই দেশের অগ্রগতির ধারা খুবই সন্তোষজনক। পাশাপাশি পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টায় রত বলে আল্লাহর রহমতও মানুষের প্রতি রয়েছে। ঈমান-আমান ঠিক রেখে আমাদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
জেপি’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, শান্তি, স্বস্তি, বিচারসহ সকল ধরণের বাঁচার অধিকার চাওয়া এবং তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। গত ৩৩/৩৪ বছর আমরা এ এলাকায় বাসিন্দাদের যে কথাটি বারবার বলে এসেছি তাহলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে সে জনপদে উন্নয়ন লাভ ঘটবেই। আমরা আগে নদীপথ নির্ভর এই দক্ষিণ অঞ্চলে সরু রাস্তা নির্মাণ করতাম এখন সেসব রাস্তা চওড়া হচ্ছে। মানুষ আগে নৌকায় চলাচল করত এখন সাইকেল, রিকসা, ভ্যান, ছোট ছোট গাড়ীতে চলে। আগামীতে চওড়া রাস্তায় বড় গাড়ীতে চলাচল করবে। ভাবিষ্যতে আমাদের কথা স্মরণ করে মানুষ বলবে কেউ একজন শুরু করে ছিলেন বলে আমরা এখন উন্নয়নের মৌলিক স্বাদ পাচ্ছি। আমাদের শুরু করা বিদ্যুতের ব্যবহার করে জীবনমানের উন্নয়ন হচ্ছে। আগে এ এলাকার নদী ভাঙ্গনরোধে সীমিত পরিসরে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল যা এখন নদীগর্ভে। এ অঞ্চলের অধিবাসীদের জলোচ্ছ্বাস, লোনাপানির প্রবেশ, নদী ভাঙ্গন, জলাবদ্ধতা ইত্যাদি থেকে রক্ষা করতে ৫৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহদাকারের বেড়িবাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ মানুষকে ভাগ্য উন্নয়নের ধারায় জীবন-যাপন করতে অভ্যস্ত করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যহত থাকবে। আগামী নির্বাচন হবে উন্নয়নের পথে জনগণকে এগিয়ে নেয়ার একটি সুযোগ। আমাদের সকলের চেষ্টা থাকবে নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে দলে দলে ভোট দেয়ার জন্য উৎসাহিত করা এবং ভোট কেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ রাখা।
ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের ইকড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই নির্বাচনী জনসভার সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির হাওলাদার। সভা পরিচালনা করেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফায়জুর রশীদ খসরু, উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভান্ডারিয়ার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা জেপি’র সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, পিরোজপুর জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল হাই হাওলাদার এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নিজামুল হক নান্না। এ সময় মঞ্চে ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা পার্টি’র সভানেত্রী আসমা আক্তার, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান খান এনামুল কবির পান্না, জেলা পরিষদের মহিলা সদস্য রোকেয়া বেগম, জেলা পরিষদ সদস্য রেজাউল হক রেজভি প্রমুখ।
