চিতলমারী শান্তি সেবা সদনের অপচিকিৎসার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
বাগেরহাটের চিতলমারীর ‘শান্তি সেবা সদন’র অপচিকিৎসায় গর্ভাবস্থায় মোঃ মোস্তফা ফকিরের মেয়ে সন্তানের মৃত্যু এবং তার স্ত্রী আজীবনের জন্য বন্ধ্যা হয়ে গেছে। রবিবার বিষয়টি তিনি চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। এদিন তিনি উপজেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। তিনি ক্লিনিক ব্যবসার নামে এই ধরণের অপচিকিৎসা বন্ধ করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে মোঃ মোস্তফা ফকিরের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোঃ দাউদুল ইসলাম শেখ।
রবিবার চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলন করেন বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার আটজুড়ি ইউনিয়নের দত্তডাঙ্গা গ্রামের মৃত আনোয়ার ফকিরের ছেলে কৃষক ও রঙমিস্ত্রি মোঃ মোস্তফা ফকির। তাঁর স্ত্রী রহিমা বেগমের (ময়না) বয়স প্রায় ২৫ বছর। তিনি জানান, মোল্লাহাট উপজেলার পদ্মডাঙ্গা গ্রামের ডাঃ তাপস কান্তি পোদ্দার চিতলমারী উপজেলার ব্র্যাক অফিসের পাশে ‘শান্তি সেবা সদন’ নামে একটি ক্লিনিক খুলেছেন। মোল্লাহাট এলাকার লোকেরা ভাল চিকিৎসার আশায় তার নিকট যায়।
মোঃ মোস্তফা ফকির বলেন, ‘আমার স্ত্রী গর্ভবতী হলে তাকে নিয়ে ডাঃ তাপস কান্তি পোদ্দারের ক্লিনিকে যাই। সেখানে পর্যায়ক্রমে আমার গর্ভবতী স্ত্রীর ইউএসজি পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাফি সহ যাবতীয় চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখি। গত ২২ নভেম্বর ২০১৮ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আমার গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে ডাঃ তাপস কান্তি পোদ্দারের উক্ত ক্লিনিকে আসি। এই দিন বেলা ১১টার দিকে আল্ট্রাসনো করার পর ডাঃ তাপস কান্তি পোদ্দারকে জানাই যে, আমার স্ত্রীর প্র¯্রাবে জ্বালাপোড়া হচ্ছে। একথা শুনে ডাঃ তাপস কান্তি পোদ্দার তার কম্পাউন্ডারকে একটি ইনজেকশন আমার স্ত্রীকে দিতে বলে। ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী কম্পাউন্ডার শ্রীবাস মন্ডল ইনজেকশনটি আমার স্ত্রীর ডানহাতে পুশ করে দেয়। ইনজেকশনটি পুশ করার পরবর্তী এক মিনিটের মধ্যেই ৩৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্তা স্ত্রী ডাঃ তাপস কান্তি পোদ্দারের চেম্বারে বসে থাকা অবস্থায় মারাত্মকভাবে ছটফট শুরু করে। এর ঘন্টা দুয়েক পর থেকে আমার স্ত্রীর হঠাৎ রক্তপাত শুরু হয়। এইদিন ডাঃ তাপস বলেছিলেন, ‘আমার স্ত্রীর আল্ট্রসনো রিপোর্ট অনুযায়ী সন্তান প্রসবের দেড় মাস বাকি।’
তিনি বলেন, ‘ওই ইনজেকশন পুশ করার পরে আমার স্ত্রীর শরীর হতে হঠাৎ চাকাচাকা রক্তপাত অব্যাহত থাকে। বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে ডাঃ তাপস কান্তি পোদ্দার আমাকে বলেন আমার স্ত্রীকে চিতলমারী সরকারী হাসপাতালে নিয়ে যেতে। রক্তাক্ত অবস্থায় স্ত্রীকে চিতলমারী সরকারী হাসপাতালে নিয়ে দেখি ডাক্তার নেই। এখান থেকে দ্রুত এ্যাম্বুলেন্সে স্ত্রীকে নিয়ে যাই গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে। এদিন ছিল বৃহস্পতিবার। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে পৌঁছে দেখি ডাক্তার নেই। এরপর তাকে নিয়ে রাত আটটায় গোপালগঞ্জ কাজী আজগর মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করি। সঙ্গে সঙ্গে এখানে অপারেশন হয়। অপারেশনে দেখা যায়, আমার স্ত্রীর সন্তানের নাড়ি ফেটে আমার মেয়ে সন্তানের মৃত্যু হয়েছে, এমনকি সন্তানের পেটও ফেটে নাড়ি বের হয়ে যায়। কর্তব্যরত ডাক্তারগণ স্ত্রীকে বাঁচাতে তাঁর জরায়ুর নাড়ি কেটে ফেলতে বাধ্য হন। মোঃ মোস্তফা ফকির আরো বলেন, ‘আমার সন্তানের মৃত্যু এবং স্ত্রীর সারাজীবন বন্ধ্যা অবস্থার জন্য দায়ি ডাঃ তাপস কান্তি পোদ্দার এবং তার কম্পাউন্ডার শ্রীবাস মন্ডল। আমার স্ত্রী এখনো শয্যাশায়ী, সে মানসিক ভাবেও ভেঙ্গে পড়েছে।’
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবুসাঈদ অপচিকিৎসার ঘটনা (মোঃ মোস্তফা ফকিরের স্ত্রী) শুনে বলেন, ‘এটা মামলার আওতাভুক্ত বিষয়।’
চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আলমগীর হোসেন জানান, অপচিকিৎসায় কোন শিশুর মৃত্যু হলে কিংবা মায়ের শারিরীক ক্ষতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া, স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স ছাড়া ক্লিনিক ও ডায়গনষ্টিক ব্যবসা অবৈধ।
