ভান্ডারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র নিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র প্রদানে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের ইকড়ি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যলয়ের ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত টাকার চেয়ে ২/৩ গুণ বেশি টাকা আদায় করা হয়েছে।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (অভিভাবক শ্রেণীর সদস্য) সদস্য মো. আনোয়ার হোসেনের এক লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে ওই বিদ্যালয়ের সাময়িক বরাখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক একেএম আমীনুল হক, সহকারী প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দীন ও ধর্মীয় শিক্ষক আ. সালাম একত্রিত হয়ে অর্থ বাণিজ্য শুরু করেছেন। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ও বিদায় অনুষ্ঠান বাবদ শিক্ষার্থী প্রতি ১ হাজার ২শ’ টাকা করে নেন তারা। এছাড়া পরীক্ষার হলে সুযোগ করিয়ে দেয়ার কথা বলে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে আরও ২০ হাজার টাকা দাবী করেন। টাকা দিতে দুই দিনের সময় বেধে দেন, অভিযুক্ত শিক্ষকগণ। শিক্ষার্থীরা টাকা দিতে দিতে অস্বীকার করায় উক্ত শিক্ষকরা তাদের হুমকি দিয়ে বলেন- ‘তোমাদের পরীক্ষার হলে এমন শিক্ষক গার্ড পাঠাবো তখন তোমরা বুঝবে।’
এদিকে, ফরম পূরণের সময়ও ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক একেএম আমীনুল হক ২০২৪ সালের ৬১ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩ হাজার ৬শ’ টাকা থেকে ৫ হাজার ২শ’ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন। ছাড়া ফরম পূরনের পরে ছাত্রদের কোচিং করানোর নাম করে ছাত্র প্রতি ১ হাজার ৫শ’ টাকা বাধ্যতামূলক আদায় করলেও কোন কোচিং করানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন একাধিক অভিভাবকরা।
এদিকে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র ফি ও বিদায় অনুষ্ঠানের নাম করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আরও ১ হাজার ২শ’ টাকা আদায় করা হচ্ছে মর্মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ছাত্র অভিভাবকরা।
ফরম পূরণ বাবদ বরিশাল শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রতি পত্র ফি, ব্যবহারিক ফি, অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ফি, মূল সনদ ফি এবং অন্যান্য সকল বিষয়সহ সর্ব সাকুল্যে ছাত্র প্রতি ১ হাজার ৮১৫ টাকা এবং প্রবেশপত্র বাবদ ৪৯০ টাকা মোট ২ হাজার ৩০৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল।
এ সকল অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ওই স্কুলের বর্তমান সভাপতি শাহানাজ পারভিন ও ইকড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৪ ও ৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন হাওলাদার ও মো. আনোয়ার হোসেন বাচ্চু।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
ইকড়ি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যলয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম আমীনুল হক, সহকারী প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দীন ও ধর্মীয় শিক্ষক আ. সালাম অতিরিক্ত টাকা নেয়া, শিক্ষার্থীদের হুমকি এবং পরীক্ষার হলে সুযোগ করিয়ে দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বোর্ডের নিধারিত ফি এর বাইরে কোন টাকা নেয়া হয়নি।
ভান্ডরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াছিন আরাফাত রানা বলেন, ইকড়ি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যলয়ের অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
