বিলুপ্তির পথে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রাজপাশার হাতে ভাজা মুড়ি শিল্প
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া ধাওয়া ইউনিয়নের রাজপাশা গ্রামকে বলা হতো মুড়ির গ্রাম। সময় আর কালের বিবর্তনে মোটা মুড়ির জায়গা দখল করে নিয়েছে মেশিনের চিকন মুড়ি। ফলে প্রতিযোগিতায় আর আগের মতো টিকে থাকতে পারছেনা রাজপাশার মুড়ি কারিগররা। তিন পুরুষের পেশা ছেড়ে দিয়ে বেছে নিচ্ছেন অন্য পেশা।
মুড়ি ব্যবসায়ী যুগল দাস জানান, বাপ দাদার ব্যবসা এখন কোন রকমে চালিয়ে নিচ্ছি। ইউরিয়া মেশানো ঢাকার মেশিনের মুড়িতে বাজার এখন ছয়লাপ, ফলে ধিরে ধিরে রাজপাশা গ্রামের হাতে ভাজা মুড়ির কদর কমে যাচ্ছে। মোটা ধানের সনাতন পদ্ধতিতে উৎপাদিত মিষ্টি মুড়ি স্বাস্থ্যসম্মত বলে দাবী করেন তিনি।
মুড়ি ব্যবসায়ী কল্পনারানী বলেন, আগে প্রতি মাসে মুড়ি ভাজার কাজে ব্যস্ত থাকতে হতো এখন বাজারের বেচাকেনার অবস্থা ভালো না। তাই মাসে ৭ দিনের উৎপাদিত মুড়ি অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে।
সমীর দাস, দুলাল দাস, নির্মল দাস, রিপন দাস, জগৎদীশ দাশ, মিলন দাস, সাধনা ধোপা, কার্তিক ধোপা সরেজমিনে পিরোজপুর কন্ঠকে জানান পুঁজির অভাব, ধানের দাম বৃদ্ধি আর মুড়িভাজার উপকরন ও প্রচারের অভাবে হাতের তৈরী মিষ্টি মোটা মুড়ি বাজার হারাচ্ছে বলে জানান।
উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মোঃ আব্দুল হালিম জানান, ভোক্তা অধিকার সহ বাজারে একাধিকবার বিষমুক্ত খাবার ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়ায় জন্য মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করেছি। ঢাকার মুড়িতে ইউরিয়া সারের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা বি.এস.টি.আই এর টেস্টিং ল্যাবে প্রেরনের ব্যবস্থা করবো।
ধাওয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমান টুলু ডাকুয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুড়ি কারিগরদের টিকিয়ে রাখতে হলে সহজশর্তে ঋন দিয়ে করোনার প্রাদুর্ভাবকালীন মন্দা কাটিয়ে পৈত্রিক পেশায় টিকে থাকতে পারবে বলে জানান।
উপজেলা দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন ও পল্লী উন্নয়ন ব্যাংক কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে এখনো তারা যোগাযোগ করেনি তবে এখন খতিয়ে দেখছি তাদের পাশে কোন সহায়তা প্রদান করা যায় কিনা।
