ভান্ডারিয়া ভাড়ায় ৫ পিএসসি পরীক্ষার্থী
জেলার ভান্ডারিয়ায় চলমান প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় (পিএসসি) সোমবার ছিল বাংলা পরীক্ষা। আর এতে উপজেলার ৪নং মেদিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১৪৪নং উত্তর ভিটাবাড়িয়া জাতীয়করণ প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও তার মধ্যে একজন অনুপস্থিত ছিল। যে চার জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে তারাও উপজেলার অন্য একটি মাদ্রাসার ছাত্র বলে অভিযোগ রয়েছে। পাঁচ জনের মধ্যে মো. জাকারিয়া রোল নং- ২৩৩ অনুপস্থিত ছিল। বাকি চার জন হল কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের নাছির উদ্দিনের ছেলে ইমন হোসেন (রোল-২৩৪), পিরোজপুর সদরের সিআই পাড়ার শাহাদাৎ হোসেনের ছেলে মেহেরাব হাসান অভি (রোল-২৩৫), ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের রুহুল আমিনের মেয়ে মোসা: সালমা (রোল-২৩৬) এবং বরিশালের বাখেরগঞ্জের ভরপাশা এলাকার সোহাগ মল্লিকের মেয়ে সোহাগী (রোল-২৩৭)। এই চার জনই উপজেলার অন্য এলাকার একটি মাদ্রাসার ভাড়াটে পরীক্ষার্থী।
এদিকে, সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় একটি বাড়ির সুপারি বাগানে ছোট আকারের তিনটি কক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনের ঘর। ঘরটির সামনের অংশে টিনের বেড়া এবং পিছনে ফাকা কাঠের বেড়াসহ শুধু একটি ঘর দন্ডায়মান অবস্থায় দেখা গেছে। সামনে জাতীয় পতাকা টানানোর জন্য একটি শুকনো বাঁশ থাকলেও স্কুল খোলার দিনে পতাকা নেই, কক্ষে তালা ঝুলছে। পাশে কিছু উঠতি বয়সী যুবক আড্ডা দিচ্ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রাজু গাজীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, এই স্কুলে শুধু একটি ঘরই আছে, তবে কোন ছাত্র-ছাত্রী দেখিনা এবং লেখাপড়াও হয়না।
অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা এবং একই এলাকার বাসিন্দা বিরেন্দ্র নাথ বসু জানান, ১৯৮৯ সালে এই স্কুলটি একই এলাকার সাধন চন্দ্র চন্দের বাড়িতে তাদের জমির উপর বেসরকারি রেজিস্টার স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই সময় প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন একই এলাকার শামীম গাজী। আর অন্যদের মধ্যে জমিদাতার পরিবারের পূর্ণিমা নামের এক শিক্ষকসহ মোট চার জন শিক্ষক ছিল। কিছু দিন পরে শামীম গাজী এবং অন্য এক মহিলা শিক্ষক অন্যত্র চলে যাওয়ায় পূর্ণিমা রানী স্কুলটি পরিচলানা করতো। পরে তার পক্ষে চালানো অসম্ভব হয়ে পড়লে বন্ধ হয়ে যায় স্কুলটি। তবে শিক্ষকদের নামে সরকারি এমপিওভূক্ত স্কুলটিতে অর্থ বরাদ্ধ আসলেও তা কে বা কারা উত্তোলন করতো তা জানা যায়নি। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে স্কুলটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হলেও এমপিওতে স্কুলের নাম আসলেও স্কুলের কোন অস্তিত্ব ছিলনা। শুধু এমপিওতে স্কুলটির নাম আসতো। পরে সরকার ২০১৩ সালে সারাদেশের রেজিস্টার প্রাথমিক স্কুলগুলো জাতীয়করণ করে তখন ভুলবশত: ওই স্কুলটির নাম তালিকা অর্ন্তভূক্ত হয়। এই সুযোগে কিছু স্বার্থান্বেষী লোক ওই সময়ের ভান্ডারিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখ আব্দুল গণিকে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চার জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়। এদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়নে একটি মাদ্রাসার শিক্ষককে। বাকি তিন জনের মধ্যে দুই জন পিরোজপুর জেলা সদরের এবং একজন স্থানীয় বাসিন্দা। স্কুলটির কোয়াটার কিলোমিটারের মধ্যে পূর্ব ১১৮নং উত্তর ভিটাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পশ্চিমে ৫নং ভিটাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থানীয় জনসংখ্যার অনুপাতে এই স্বল্প দুরত্বের মধ্যে আর একটি স্কুল হলে স্কুলগুলোতে সরকারি হিসেবে দেখানো ছাত্র-ছাত্রী কোথা থেকে আসে বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ।
অন্যদিকে, সোমবার মেদিরাবাদ পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্র সচিব বরুন কুমার ও হল সুপার আব্দুল আলিম জানান, কেন্দ্রের ৫নং কক্ষে পাঁচ জন ডিআর ফরমে নাম ও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে একজন অনুপস্থিত এবং বাকি চার জনের নাম ও ছবির মিল আছে।
অভিযুক্ত স্কুলটির প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিমের সাথে ওই পরীক্ষ কেন্দ্রে বসে জাইতে চাইলে তিনি জানান, স্কুলটি এমপিভূক্ত হলেও শিক্ষকদের বেতন হয়নি, উপবৃত্তি না হলে ছাত্র-ছাত্রী কোথায় পাব। তাই অন্যত্র থেকে বাধ্য হয়ে ছাত্র আনতে হয়। প্রধান শিক্ষক আরো জানান, আমরাই বা আর কত বিনা পয়সায় খাটব। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানান, শিক্ষকদের বেতন করাতে হলে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহন না করলে বেতন হয়না তাই এই স্কুলটির প্রধান শিক্ষক ভাড়ায় পরীক্ষার্থী এনে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করিয়েছেন ।
এ বিষয়ে উপজেলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নামজুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, খবরটি শোনার পরে আমি (ইউএনও) আমার পক্ষ থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জালাল উদ্দিন খানকে কেন্দ্রে গিয়ে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। তিনি (টিও) তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ বিষয়ে প্রাথমিক উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জালাল উদ্দিন খান জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্দেশ দেয়ার পরে ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং অভিযোগের বিষয়ে সঠিক খোঁজ খবর নিচ্ছি।
