ভান্ডারিয়ায় দাপদাহে ওষ্ঠাগত জনজীবন
গ্রীষ্মের দাপদাহে ভান্ডারিয়ায় জনজীবন ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছে। সূর্যের তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানের হাট-বাজারের ছোট খাট দোকানগুলোতে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা কাটার কোন ভিড় ছিলনা চোখে পড়ার মত।
প্রচন্ড তাপদাহে ভান্ডারিয়া পৌর শহরে ভারত সরকারের অর্থায়নে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের স্থানে প্রয়োজনীয় খাবার পানি সংগ্রহ করতে কিশোর, যুবকসহ বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। তারা জীবন রক্ষা কবচ পানি সংগ্রহে ছোট, বড়, মাঝারি পাত্র নিয়ে কলের কাছে লাইন দিয়ে পানি সংগ্রহ করছে। অপরদিকে, পৌর শহরের বাইরে উপজেলার অন্য ৬টি ইউনিয়নে যাদের বাড়িতে বিশুদ্ধ পানির টিউবয়েল রয়েছে সেসব বাড়িতে পার্শবর্তী বাড়ির মানুষ লাইন দিয়ে পানি সংগ্রহ করছে।
সিয়াম সাধনার চলমান রমজান মাসে রোজাদার মানুষের ভিষণ কষ্ট হচ্ছে। তার মধ্যে আবার ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট তো রোজকারের কথা। সব মিলিয়ে প্রচন্ড গড়মে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জীবনযাত্রা। বাতাসের গতিও কম। যে সকল এলাকায় গাছগাছালির সংখ্যা বেশি সে সব স্থানে কিছুটা বাতাস মেলে তাও প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট কম। গ্রীষ্মের এই দাপদাহে সব থেকে বেশি কষ্টের মধ্যে আছে রোজাদার ব্যক্তিরা।
অন্যদিকে, গ্রামীন জনপদের কৃষকদেরও প্রচন্ড গরমের মধ্যেও আউশ মৌসুমে চাষের কাজে ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। যদিও মাঠে চাষের পানি জনিত কোন সমস্যা না হলেও বেশি সমস্যা হচ্ছে প্রচন্ড গরমে। কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই ঠাডা পড়া রৌদে (রৌদ্র) কাম করইঅ্যা (কাজ করে) হ্যার পর ফসল পাইলে হ্যার (তার) সঠিক দাম পাইনা। হে যাগায়েও (যায়গায়) দালাল !” মানে জীবন চলার পথে প্রতিটা পদক্ষেপে যে কোন কাজে যেমন নেতাদের সাথে দেখা করে তাদের সমস্য তুলে ধরা, চাকুরী, ব্যবসায় মাল কেনা, মালিকদের কাছ থেকে দোকান ভাড়া রাখা সর্বত্র যেন দালাল ছাড়া চলেই না।
এদিকে, গতকাল বুধবার পৌর শহরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে রোজার ইফতারি সামগ্রীতে পানির অভাব মেটাতে ক্রেতারা তরমুজের দোকান খুজছে। পূর্বে ভান্ডারিয়া বাজারে তরমুজ মজুত রাখা হত। কিন্তু গেল কিছুদিন আগে শিলা বৃষ্টির ফলে মাঠেই তরমুজ নষ্ট হওয়ায় বাজারে আমদানি নেই তরমুজের। পূর্বে যেভাবে বাজারের বহু দোকানে অহরহ তরমুজ পাওয়া যেত আর এখন হাতে গোনা ২/১টি দোকানে কিছু সংখ্যক তরমুজ দেখা গেছে। তাও বিক্রি হচ্ছে তরমুজের সাইস অনুসারে ৩০/৪০/৫০/৬০/৭০/৮০/১০০/১৫০ টাকা কেজি দরে। যা নি¤œআয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। দোকানীদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, আগে তরমুজ বিক্রি হতো সাইজ অনসারে আর এখন মালের আমদানি না থাকায় যার কাছে যা আছে তা একদিকে মোকামেই বেশি দামে কেনা। তার উপর বাজারে আনতে পরিবহন ও আনুসাঙ্গিক খরচ বাদে যে দামে বিক্রি করি তাতে খুব কমই লাভ হয়। তবে দুপুর গড়িয়ে পশ্চিমের আকাশে সূর্য অস্তমিতের লাল আভা ম্লানের সাথে সাথে একটু স্বস্তি মেলে মানুষের মাঝে। রাতে যখন ঘরে বা ভবনে তখন আবার অন্য যন্ত্রনা। একদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রটি অন্যদিকে গরমের তীব্রতা থাকে খুব বেশি। এক কথায় মানুষের জীবন তীব্র গরমে ওষ্ঠাগত প্রায়।
