প্রধান সূচি

স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও শ্রমিকরা ন্যায্য অধিকার ফিরে পায়নি

… চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও দেশের কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পায়নি। যাদের রক্ত জল করা ঘামে অর্জিত হয় রাষ্ট্রের আয়ের বড় অংশ অথচ তারাই তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। যখন শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকারের জন্য আন্দোলন করেন তখন সরকার-মালিক এক হয়ে শ্রমিকদের দমানোর চেষ্টা করে থাকে। এ দেশে খুনীদের বিরুদ্ধে মামলা করে বাদীকে বিচারের জন্য ধর্ণা দিতে হয় আর খুনী মামলার আসামীরা ধরাছোয়ার বাইরে থেকে বুক ফুলিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। অপরাধীদেরকে ধরা ছোয়ার বাইরে পৃষ্টপোষকতা দিয়ে বিচার প্রার্থীদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করা এখন কালচারে পরিনত হয়েছে। এ কারণে দেশে হত্যা, খুন, ধর্ষণ ও আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানোসহ বিভিন্ন রকম অপরাধের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েই যাচ্ছে।

মঙ্গলবার বিকেলে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার বাসস্ট্যান্ড কলেমা চত্বরে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন ভান্ডারিয়া সাংগঠনিক জেলা শাখা আয়োজিত কৃষক-শ্রমিক ছাত্র জনতা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর বলেন, দেশের মানুষ শান্তি চায়, নিরাপত্তা চায় অধিকার নিয়ে বাঁচতে চায়। কৃষক কৃষি কাজ করে লাভবান হতে চায়, ক্ষতিগ্রস্ত হতে শ্রম দেয় না। সরকার মুখে বড় বড় কথা বললেও বাস্তবিক অর্থে দুঃখ কষ্টে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছে। দেশে বিদেশে শ্রমিকরা অধিকার হারা, প্রতারিত হচ্ছে, কিন্তু সরকারের সে দিকে কোন খবর নেই।

তিনি বলেন, দুর্নিতি, দুঃশাসন অপরাজনীতির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অবিভাবকরা নিরাপদ মনে করছেন না। সব মিলিয়ে দেশে এখন নীতি-নৈতিকতা, আস্থা-বিশ্বাস, ভক্তি-শ্রদ্ধা, মায়া-মমতা, মানুষের প্রতি মানুষের মহব্বত ও দ্বীন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাওয়ায় দেশে প্রতিদিন নতুন করে সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ সকল সংকট থেকে দেশকে রক্ষা, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে কুরআন-সুন্নাহর আইন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মহান গ্রন্থ আল কুরআন সেল্ফে তুলে রাখার জন্য নাজিল হয়নি। এ মহান গ্রন্থ পড়ে আয়ত্ব করে এবং তার কুরআন-সুন্নহের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। কালেমা পড়ে শুধু নামাজ রোজা করলেই ইসলাম হবে না। কালেমা পড়ে আল্লাহর বিধানকে রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, এটাই মুসলমানের দায়িত্ব।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ভান্ডারিয়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শহিদুল ইসলাম কবিরের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, দলের প্রেসিডিয়ার সদস্য আল্লামা নুরুল হুদা ফয়েজী, ইসলামী শ্রমিক অন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগরের সভাপতি প্রভাষক মাওলানা জাকারিয়া হামিদী, ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক জেহাদী,ইসলামী কৃষক-মজুর আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাকছুদুর রহমান, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মো. ইব্রাহিম হোসেন মৃধা, পিরোজপুর জেলা ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারী মাওলানা এবিএম শেহাব উদ্দীন শেহাব, ভান্ডারিয়া উপজেলার নেতা মাওলানা মো. সোলায়মান মিয়া, ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা সভাপতি আলহাজ্ব বাদশা জোমাদ্দার, শ্রমিক আন্দোলন নেতা মাওলানা বেলায়েত হোসেন মো. মোখলেছুর রহমান ও ইকবাল শিকদার প্রমূখ।

পরে প্রধান অতিথি সাংগঠনিক জেলা ও ভান্ডারিয়া উপজেলার ২০১৭-১৮বছরের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ২০১৯-২০ বছরের নতুন কমিটি ঘোষণা করেন।

মো. বেলায়েত হোসেনকে সভাপতি ও মাওলানা মো. ইকবাল শিকদারকে সাধারণ সম্পাদক করে ভান্ডারিয়া সাংগঠনিক জেলা এবং মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমানকে সভাপতি ও মাওলানা জাকির হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ভান্ডারিয়া উপজেলা ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কমিটি ঘোষনা করা হয়।
এরপর সন্ধ্যায় তিনি ভান্ডারিয়া সরকারী কলেজ মাঠে এক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথির বয়ান পেশ করেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial