প্রধান সূচি

যাঁরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান তাঁদেরকে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে … আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান ও পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, যাঁরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান তাঁদেরকে অবশ্যই কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে। বাস্তবতার সাথে সম্পর্কহীন এসব জ্ঞানী-গুনী-বুদ্ধিজীবিরা বইয়ের কথা বলেন। তাঁরা মাঠের কথা জানেন না বলে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উচ্চবাচ্য করছেন। পুঁথিগত বিদ্যা নিয়ে ঘরে বসে থেকে ভাল নির্বাচন চাইলেই হবে না। দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু রাখতে ভোট কেন্দ্রে আসতে হবে। এ পর্যন্ত দেশের মানুষ ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট না দেন, তাহলে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না।
তিনি গতকাল রবিবার বিকালে পিরোজপুর জেলা কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নে উত্তর নিলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

পিরোজপুর-২ আসনে (কাউখালী – ভান্ডারিয়া – ইন্দুরকানি) ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি-জেপি’র প্রার্থী হিসাবে এ সভায় সমবেত বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষের উদ্দেশ্যে সংসদ সদস্য পদে তাঁকে ভোট দানের আহ্বান জানিয়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরও বলেন, জাতীয় পার্টি-জেপি সব সময় আওয়ামী লীগের সাথে একত্রে নির্বাচন করেছি। স্বাধীনতা-গণতন্ত্র-উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা সব সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ছিলাম এবং আছি। আগামী ৩০ ডিসেম্বর একটি বিশেষ পরীক্ষার দিন। এলাকার উন্নয়নের প্রশ্নে এ দিন আমাদের জাতীয় পার্টি-জেপি’র নির্বাচনী প্রতীক বাইসাইকেল মার্কায় ভোট দিতে হবে। এ এলাকার বাইসাইকেল সারা দেশের নৌকা প্রতীকের সাথে একাকার হয়ে গেছে। সামনের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জোট-মহাজোট বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে এবং আল্লাহর রহমতে শেখ হাসিনা আবারও প্রধানমন্ত্রী হবেন।

আনোয়ার হোসেন বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ নেই বলে যারা ঢাকায় গিয়ে টেলিভিশন ও সংবাদপত্রকে বলেন, আমরা প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারি না, তাদের জানিয়ে দিতে চাই মাঠে আসুন। তারা মাঠে আসতে চান না। কারণ তাদের জনগণের সাথে কোন সম্পর্ক নেই, মানুষের উন্নয়নে কখনই কোন কাজ করেননি। এলাকাবাসীকে তারা চেনেন না, এলাকাবাসীও তাদের কখনও দেখেনি। আমরা ৩৩/৩৪ বছর ধরে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ধারার সাথে সম্পৃক্ত, সুখ-দুঃখে, ভাল-মন্দে তাদের আমরা খবর রাখি, পাশে থাকি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ তিনি যখনই ক্ষমতায় থাকেন তখন এলাকার রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুতায়ন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য সেবা, কৃষি উন্নয়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। কঁচানদীতে বেকুটিয়া সেতু নির্মাণের কাজ তিনিই শুরু করেছেন। ১৯৯৮ সালে বলেশ্বর সেতুর উদ্বোধন ও গাবখান সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কালে প্রধানমন্ত্রী কঁচানদীতে আরেকটি সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখন আমি যোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলাম। আজকেও আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী। এই ৩৩/৩৪ বছরে ছয় বার সংসদ সদস্য ও পাঁচ বার মন্ত্রী সভায় সদস্য থাকার সুযোগে অবহেলিত দক্ষিণ অঞ্চলসহ সারা দেশে উন্নয়ন কাজে যথাসাধ্য ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। যতদিন আল্লাহ আমাদের এ সুযোগ দেবেন, ততদিন মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-২ আসনে জনগণকে আবারও তাঁকে বাইসাইকেল মার্কায় ভোট দানের আহ্বায়ন জানিয়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, এ দিন সবাইকে দলে দলে কেন্দ্রে এসে ভোট দান করে নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি-জেপি’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ নির্বাচনী জনসভায় সভাপতিত্ব করেন চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মাহামুদ খান খোকন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহ মোহাম্মদ কাইয়ুম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এডভোকেট এ কে এম আব্দুস সহিদ, কাউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুর রশীদ মিল্টন, কাউখালী উপজেলা জেপি’র সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম নসু, টুঙ্গীপাড়া আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশীদ তারিক, জেপি নেতা প্রভাষক হারুন অর রশীদ, কাউখালী উপজেলা যুব সংহতির সভাপতি জিয়াউল হাসান জুয়েল, কাউখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মৃদুল আহমেদ সুমন প্রমুখ। এ সময় মঞ্চে ছিলেন জাতীয় পার্টি-জেপি’র কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এডভোকেট হুমায়ুন কবির তালুকদার রাজু, কাউখালী উপজেলা জেপি’র সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান খান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক বিশ্বজিৎ পাল, ভান্ডারিয়া উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, কেন্দ্রীয় জেপি নেতা ইউসুফ আলী আকন, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান পল্টন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুনীল কুন্ড, আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট আব্দুল আউয়াল, সয়না-রঘুনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনু, শিয়ালকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান সিকদার দেলোয়ার হোসেন, জেলা পরিষদ সদস্য ও কাউখালী উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শাহজাদী রেবেকা শাহীন চৈতী, কাউখালীর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম উদ্দিন চন্নু, কাউখালী উপজেলা জেপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম তালুকদার, জেপি নেতা বজলুর রহমান নান্নু, যুব সংহতির কেন্দ্রীয় নেতা মনজুরুল মাহফুজ পায়েল, যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান মনু, উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী শাহিদা হক, সাধারণ সম্পাদক কাশমিরী পারভীন ঝুমুর, মহিলা পার্টি’র আফরোজা সনু, সাহিদা জেসমিন প্রমুখ।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial