বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে টিকে আছেন …. আনোয়ার হোসেন মঞ্জু
জাতীয় পাটি-জেপি’র চেয়ারম্যান এবং পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে টিকে আছেন। তিনি যে দেশের মানুষের জন্য স্বপ্ন দেখে ছিলেন তা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ চেয়েছিলেন। মানুষের উন্নয়ন হবে, কর্মসংস্থান হবে, মানুষ নির্যাতিত হবে না, নিগৃহীত হবে না এরূপ স্বপ্নের দেশের জন্য তিনি ত্যাগ করেছেন, নির্যাতন স্বীকার করেছেন, জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বাংলার স্বার্থে পাকিস্তানীদের সাথে তিনি কোন আপোষ করেন নি।
বুধবার দুপুরে ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি-জেপি’র যৌথ উদ্যোগে ভান্ডারিয়ায় জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে যে শক্তি পরাজিত হয়েছিল করে শক্তি সঞ্চয় করে তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই দিনে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ছিল। যখন বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন সেই সময়কালে এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকায় তাঁর মত আরও অনেক নেতা নিহত হন, প্রাণ হারান। তখন শক্তিধরদের হাতে মারটিন লুথার কিংয়ের মত কালো মানুষের নেতাকে প্রাণ দিতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধু’র স্বপ্ন ছিল ব্যক্তি স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার। এই স্বপ্নের জন্য তাঁকে মূল্য দিতে হয়েছে। তিনি যে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন তার সাথে তুলনীয় সোভিয়েত ইউনিয়নের বলশেভিক ঘটনার। তৎকালীন রাশিয়ার জার বংশকে নিশ্চিহ্ন করতে রাজা-রানীসহ শিশুদের পর্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বিশেষতঃ এশিয়া-আফ্রিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যে বিপ্লব হয়েছে, গণঅভূত্থানের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হয়েছে তারা বিরোধী দলকে হত্যা তথা নিশ্চিহ্ন করেছিল। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশের বৈশিষ্ট হলো এ দেশে যখন তাঁর নেতৃত্বে স্বাধীনতা আসলো সেখানে কোন হিংসা ছিল না, হানাহানি ছিল না, রক্তক্ষয় ছিল না। তিনি আবেদন করে ছিলেন আসুন আমরা সকলে মিলে আমাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করি। অথচ ৭১’র পরাজিত শক্তির হাতেই তিনি প্রাণ দিলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রজন্ম বঙ্গবন্ধু’র নামে আজ শ্লোগান দেয়, জয়বাংলা বলে উচ্চকন্ঠ হয় কিন্তু এই প্রজন্ম জানে না আমরা সেদিন ছাত্রাবস্থায় বঙ্গবন্ধু’র ছায়াতলে থেকে জয়বাংলা শ্লোগান শুরু করেছি। আমরা এ ক্ষেত্রে সফল হয়েছি এবং এই সফলতাকে কার্যকর করতে নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু’র স্বপ্নের কথা জানাতে হবে। তাঁর সাথে যারা কাজ করে নাই, তাঁর কণ্ঠস্বর যারা শোনে নাই তাদের বুঝতে হবে- সমাজে যদি লুন্ঠন থাকে, লুটেরা থাকে বা লুন্ঠনকারীদের সাথে আপোষ করা হয় তাহলে ১৫ আগস্ট যুগে যুগে পালিত হবে, কিন্তু বঙ্গবন্ধু’র স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না। আজকের এই দিনে বঙ্গবন্ধুকে শুধু তাঁর সংগ্রাম বা ত্যাগের জন্য স্মরণ করলে চলবে না, তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তাঁকে স্মরণ করতে হবে। দুঃখি বাঙ্গালীর মুখে তিনি যে হাঁসি ফোঁটানোর জন্য এদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তা কার্যকর করতে আমাদের সকলকে যার যার অবস্থান থেকে অবদান রাখতে হবে। এই বাংলাদেশে এখনও সেই সমস্ত ব্যক্তিরা রাজনীতি করেন বা করতে দেয়া হয় যারা বঙ্গবন্ধু’র নেতৃত্বকে অস্বীকার করেন। অস্বীকার করলে তাঁর কোন ক্ষতি করা বা খাটো করা হয় না। যারা বঙ্গবন্ধু’র অবদানকে স্বীকার করেন না তারাই ছোট হন। তাই সত্যকে সত্য হিসাবে মেনে নিতে হবে। আমরা বঙ্গবন্ধু’র ছত্র ছায়ায় রাজনীতি করেছি, আজকের প্রজন্ম সেই অনুভুতির কথা কল্পনাও করতে পারবে না। বর্তমান প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু’র স্বপকে বাস্তবায়ন করতে অবশ্যই নিজেদেরকে দেশ পরিচালনার জন্য সুশিক্ষায় সুশিক্ষিত হতে হবে। সুশিক্ষার কোন বিকল্প নাই। আগামীতে যারা দেশ পরিচালনা করতে আসবেন তাদের অবশ্যই মেধাবী হতে হবে এবং নিজস্ব পরিকল্পনা ও সমর্থক গোষ্ঠি থাকতে হবে।
জেপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমরা যখন ১৯৮৪ সালে ভান্ডারিয়া তথা দক্ষিণাঞ্চলের প্রয়োজন মিটাতে রাস্তাঘাট নির্মাণের কাজ শুরু করি তখন সরকারের আমলারা ঢাকায় বসে বলতেন খাল-নদীর দেশে নৌকা ছাড়া অন্যকোন পরিবহণ ব্যবস্থা অলীক কল্পনা। তখন তাদের আমরা বলেছি মধ্যবিত্তের অন্ততঃ একটি বৈঠকখানা থাকে যা ছোট করে সাজাতে হয়। আজ দক্ষিণাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে বিশাল পরিবর্তন সাধনে আমরা সক্ষম হয়েছি তা বঙ্গবন্ধু’র স্¦প্নেরই বাস্তবায়ন। তাই দলমত নির্বিশেষে সকলের অতীত রাজনৈতিক কর্মকান্ড ভুলে এ অঞ্চলের জন্য এক হয়ে কাজ করতে হবে। তবেই বঙ্গবন্ধু’র অসমাপ্ত কাজ আমরা সম্পন্ন করতে সক্ষম হবো।
স্থানীয় উপজেলা রিজার্ভ পুকুর পাড়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফয়জুর রশীদ খসরু জোমাদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশীদ তারিক। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জেপি’র আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা জাতীয় মহিলা পার্টির সভানেত্রী আসমা আক্তার, উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান চৌধুরী, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান খান এনামুল করিম পান্না, জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল হাই হাওলাদার, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ সিকদার প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক দোয়া মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ৭৫’র ১৫ আগস্টের শহীদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্য এবং অন্যান্য শহীদদের রুহের মাগফিরাত করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মুফতি জাকারিয়া আল-কাসেমি।
