ভান্ডারিয়ায় বাথরুম থেকে হাত-পা বাধাঁ অবস্থায় স্কুল ছাত্রী উদ্ধার
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানা সংলগ্ন থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ইসমত জাহান ইসফা (১২) নামের ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বিদ্যালয়ের বাথরুম থেকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এ সময় তার মুখেও টেপ দিয়ে আটকা ছিল। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে বিদ্যালয়ের দোতালায় একটি বাথরুমে অপর এক শিক্ষার্থী গেলে দরজা বন্ধ দেখে। অনেকক্ষন অপেক্ষা করে ধাক্কা দিলে ভিতর থেকে একটি শব্দ পেলে বাহিরে থাকা শিক্ষার্থী শিক্ষকদের জানালে তারা থানা পুলিশের সহায়তায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে ভান্ডারিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাসপাতালে মুঠোফোনে জানতে চাইলে জরুরী বিভাগ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, উপজেলার নদমুলা ইউনিয়নের হারুন অর রশিদের মেয়ে এখানে ভর্তি হয়েছিল পরে তাকে পিরোজপুরে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জহিরুল হক জানান, পিরোজপুর পাঠিয়েছে কিনা জানিনা তবে মেয়েটির পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যদি পরিবার চায় তাহলে তাকে পিরোজপুর নিতে পারে।
ভান্ডারিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জহিরুল আলমের কাছে জানতে চাইলে সে বিষয়টি শোনেননি বলে জানান। পরে দুপুর পৌনে দুইটার দিকে ওই কর্মকর্তা জানান আমি স্কুলে এসেছি মেয়েটি স্বাভাবিক আছে ক্লাস করছে। এসময় তিনি ওই মেয়েটির সাথেও কথা বলিয়ে দেন।
মেয়েটি জানান, তাকে পিছন থেকে একটি পুরুষ লোক হাত-পা বেঁেধ বাথরুমের ভিতরের ছিটকানি আটকিয়ে রেখে কোন স্থান থেকে পালিয়ে গেছে তা বলতে পারিনা। তবে আমি সুস্থ্য আছি কোন সমস্যা হয়নি। বর্তমানে ক্লাস করছি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি লিয়াকত হোসেন জানান, থানার ওসি, প্রশাসন, আমরা শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটিসহ সবাই বিষয়টি নিয়ে জোড় অনুসন্ধান চালাচ্ছি। কোন ধরনের তথ্য পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন আক্তার সুমী জানান, বিষয়টি আমার কানেও এসেছে। তবে আমি জেলার কাউখালী উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় এই মুহুর্তে বেশি কিছু বলতে পারবো না।
উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উদ্ধারের বিষয় নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। কারণ স্কুলের চারিদিকে ওয়াল দেয়া। তাছাড়া দ্বিতীয় তলায় গ্রীল দেয়া, তা থেকে কিভাবে এটি ঘটে। অন্যদিকে বাথরুমের ভিতর থেকে আটকানোর সময় মেয়েটি ডাক চিৎকার করার কথা। কিন্তুু তাও নাকি করেনি। তবে আমরা সবাই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি।
