ভান্ডারিয়ায় আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) সংঘর্ষ
উপজেলা সদরে র্যাব, পুলিশ মোতায়েন ॥ ঈদের পরে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয়পার্টি-জেপি (মঞ্জু) নেতা-কর্মীদের মধ্যে সোমবার রাতে সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ অফিস, গাড়ী, দোকান ভাংচুর, মোটর সাইকেলে অগ্নি সংযোগ ঘটনার পরে উপজেলা সদরে র্যাব ও অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশি টহল জোড়দার করা হয়েছে। উপজেলা জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এদিকে, জেপির হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ মঙ্গলবার সকালে পৌর শহরের রিজার্ভ পুকুর পাড়স্থ দলীয় কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ভান্ডারিয়া পৌরসভার প্রশাসক ফাইজুর রশিদ খসরু জোমাদ্দার জানান, ভান্ডারিয়া একটি নিন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে। জেপির এ হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। পবিত্র ঈদুল ফিতরের জন্য কোন কর্মসূচি আমরা দেই নি। ভন্ডারিয়ায় আমরা কোন অশান্ত পরিবেশ চাই না। হামলা ও ভাংচুরের বিষয়ে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। তবে ঈদের আগে প্রশাসন যদি কোন ব্যবস্থা না নেয় তাহলে ঈদের পরে আওয়ামী হামলার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, ঘটনার পর থেকে উপজেলা সদরে র্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি (জেপি) নেতা-কর্মীদের মধ্যে সোমবার রাতে দু’দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ভান্ডারিয়া জেপি নেতা-কর্মীরা উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের বাড়ি ও ব্যবসায়ীক অফিসে হামলা করে ভাংচুর করা হয়। এসময় হামলাকারীরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করে। হামলায় ৫টি মাইক্রোবাস ভাংচুর এবং ৩টি মোটর সাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সংর্ঘর্ষে সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। মারাত্মক আহত ৭জনকে উন্নত চিৎিসার জন্য রাতেই বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
