বঙ্গবন্ধু বিশ্বের সকল স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য চিরদিন প্রেরণা হয়ে থাকবেন … আনোয়ার হোসেন মঞ্জু
জাতীয়পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, বিশ্বের স্বাধীনতাকামী সকল দেশের জনগণের মুক্তি সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু চিরকাল অনুপ্রেরণা ও উৎসাহের প্রতিক ও উৎস হিসেবে থাকবেন। বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করা বা শ্রদ্ধা দেখানো একটি দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা নয় তাকে জাতি প্রতিনিয়তই মনে রাখবে, সম্মান জানাবে। তিনি দেশের ৭ কোটি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকে সংঘটিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। যতদিন পৃথিবী টিকে থাকবে, মানবজাতি বেঁচে থাকবে এই অবদানের জন্য ততদিন তিনি ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও জাতীয়পার্টি (জেপি) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা আজ বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন করছি। আপনারা যদি ইতিহাস দেখেন- তা’হলে জানবেন নেতাজী সুভাষ বসু, তিতুমীর, বারো ভূইঁয়া, মহাত্মা গান্ধী এসব মহান নেতা স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সংগ্রাম করেছেন। বঙ্গবন্ধু এই স্বাধীনতার সংগ্রামকে সফল করেছেন, সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছেন। এই সোনার বাংলা আমাদের গঠন করতে হবে। বঙ্গবন্ধু সকল দলের সকল মতের মানুষকে নিয়ে একটি আন্দোলন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। যা পৃথিবীর অন্য দেশের সম্ভব হয়নি।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমাদের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাও একইভাবে ১৯৯৬ সালে এবং ২০০৮ সালে এ দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় সফল হয়েছেন। ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধু ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়ে মানুষকে সংগঠিত করে দেশ স্বাধীন করেন। বঙ্গবন্ধু মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে গেছেন। বঙ্গবন্ধুকে কেউ মন থেকে বা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে পারবেনা। তাঁকে কাজের মধ্য দিয়ে স্মরণ করতে হবে। আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত সাধারণ মানুষ ছিলেন, তাঁর মত একজন নেতাকে একদিন-দু’দিনের পরিকল্পনায় হত্যা করা হয়নি। দেশ বিদেশের দীর্ঘ ষড়যন্ত্রে তাকে শাহাদাত বরণ করতে হয়। দেশের গোয়েন্দাদের কাছ থেকে এই ষড়যন্ত্রের কথা সেনা প্রধান জানতে ব্যর্থ হয়েছিলেন এবং বঙ্গবন্ধুর সাথে তারা এ বিষয়ে কোন আলোচনা করেন নি। অথচ আজকে যে কোন কথা তাৎক্ষনিক গোয়েন্দাদের কাছ থেকে রাষ্ট্রের উচ্চ মহলে পৌঁছে যায়।
আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, আমরাও উন্নয়নের ব্যাপারে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ থেকে সচেষ্ট রয়েছি। দেশের মানুষ যদি স্বাধীনতার কাঙ্খিত সুফল না পায় তা হলে অর্জিত স্বাধীনতার কোন মূল্য থাকবে না। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, আমরা ভাগ্যবান এই জন্য যে আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক, আমাদের এক থাকতে হবে। আর এই ঐক্য আমরা ধরে রাখতে পেরেছি বলেই ভান্ডারিয়ায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে। রাস্তা, ঘাট, কালভার্ট, বিদ্যুৎসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে আমরা অনেক সফলতা অর্জন করেছি। বন্ধু দেশ ভারতের সহায়তায় ভান্ডারিয়া পৌরসভায় সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপনে আমরা সক্ষম হয়েছি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উদ্যোগে উপজেলার বাকি ৬টি ইউনিয়নেরও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে আমরা পেরেছি। এসব উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখতে হলে আমাদের স্থানীয়ভাবে এক থাকতে হবে। আমার অবর্তমানেও এই ধারা বজায় রাখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ভান্ডারিয়া উপজেলা শাখা ও জাতীয়পার্টি (জেপি) ভান্ডারিয়া উপজেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় রিজার্ভ পুকুর সংলগ্ন শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ফাইজুর রশিদ খশরু জোমাদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, জেপির ভান্ডারিয়া উপজেলা সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, আওয়ামী লীগের উপজেলা সহ-সভাপতি নিজামুল হক নান্না, জেপির যুগ্ম আহবায়ক ও গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান চৌধুরী, জেপির সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রশিদ তারিক, যুব লীগের সভাপতি এনামুল কবির টিপু তালুকদার, যুবসংহতির (জেপি) যুগ্ম আহবায়ক বাহাদুর সরদার প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেপির নেতা মোস্তফা সিকদার ও যুবলীগ নেতা লিটন পেশকার।
এসময় মঞ্চে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জেপির আহবায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আখতার, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল আজিজ সিকদার প্রমূখ।
আলোচনা সভা শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়। দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম।
