ভান্ডারিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যার অভিযোগ
জেলার ভান্ডারিয়া থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার নদমুলা শিলায়কাঠী ইউনিয়নের দারুলহুদা গ্রাম থেকে স্থানীয় দারুলহুদা আল-গায্যালী সিনিয়র কামিল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শেণিতে পড়–য়া হাবিবুল্লাহ বাবু (১৩) নামের এক ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে। হাবিবুল্লাহ দারুলহুদা গ্রামের জেলে আ. খালেকের তৃতীয় ছেলে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে হাবিবুল্লাহ সহপাঠিদের সাথে গোসল শেষ করে দুপুরের খাবার খেয়ে বিকেলে বাড়ী থেকে বের হয়ে সন্ধ্যার পরেও ফিরে না আসায় বহু খোঁজাখুঁজির পরে স্বজনরা মৃতের বাড়ি সংলগ্ন কচাঁ নদীর তীর লাগোয়া একটি বাগানে দুই হাত পেছন দিকে বাঁধা এবং গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো সুপারী গাছের সাথে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পায়।
তখন মৃতের স্বজনরা দারুলহুদা আল-গাযযালি কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দল্লাহ আল মাহামুদ এবং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. দুলাল হোসেনকে খবর দিলে তারা এসে লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে এসে ভান্ডারিয়া থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, মৃতের প্রতিবেশী জেলে সোহেলের ছেলে যুবায়ের এবং তার অপর এক সহযোগী নাসীর ৩/৪ দিন পূর্বে হাবিবুল্লাহকে মারধর করে। তবে স্থানীয়রা ধারনা করছে যে এদের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের একটি বিরোধ রয়েছে।
আল গাজ্জালি ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ মাহমুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এ নির্মম হত্যাকান্ডের নিন্দা জানিয়ে এর সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান।
এ বিষয়ে ভান্ডারিয়া থানার ওসি মো. শাহাবুদ্দিন জানান, স্বজনরা যে ঘটনাস্থলের কথা বলেছে সেখানে মৃত্যুর কোন আলামত না পাওয়া গেলেও ঘটনাস্থল থেকে ১২/১৩ বছরের মেয়েদের হাতে পড়া ১৪টি চুড়ি এবং একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে এবং লাশ ময়না তদন্তের জন্য শুক্রবার পিরোজপুর জেলা মর্গে প্রেররণ করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
