প্রধান সূচি

ভান্ডারিয়ার গৌরীপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গৌরবের ৫০ বছর

গৌরবের ৫০ বছরে পা রাখলো গৌরীপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ৭নং গৌরীপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মিঠাপুকুরিয়া খাল লাগোয়া এই বিদ্যালয়টি ১৯৬৯ সালে স্থানীয় কিছু উদ্যমী শিক্ষানুরাগীর উদ্যোগে স্থানীয় মাপের ১২ কাঠা (৩৬ শতাংশ) জমির উপরে বাঁশের খুঁটি ও গোল পাতার ছাউনি দিয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত একটি স্কুল প্রতিষ্ঠিত করা হয়।

স্কুলে জমি দান করেন মরহুম ছাকায়েত আলী হাওলাদার, বাবু ইন্দু ভূষণ হাওলাদার। মানবিক ও বিজ্ঞান এ দুটি বিষয় থাকায় স্কুলটির নাম করণ করা হয় “গৌরীপুর ইউনিয়ন দ্বিমূখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে ২ একর ৩৬ শতাংশ জমির উপর বিদ্যালয়টিতে ৩টি ভবন ও একটি মসজিদ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে আলি আহম্মেদ সিপাই প্রধান শিক্ষক থেকে মাত্র ৬ নজন শিক্ষক ও এক জন দপ্তরী এবং ১৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে স্কুলটির যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭০-৭১ পেরিয়ে ’৭২এ সেটি ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণিতে উন্নিত হয়। তখন বিজ্ঞান, মানবিক ও বানিজ্য তিনটি বিভাগ চালু হওয়ায় নাম হয় গৌরীপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সে থেকে এ পর্যন্ত ওই বিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থী ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ স্বদেশে এবং আমেরিকাসহ অনেক দেশে সরকারি, বেসরকারি চাকুরি করছেন। এরমধ্যে বর্তমান সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবও রয়েছেন।  ১৯৭২ সালে ওই স্কুল থেকে তৎকালীন যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরিক্ষায় অংশ নেন। ১১ জনই সফলতার সাথে পাশ করায় শতভাগ পাশের খ্যাতি অর্জন করে। শুধু লেখা পড়াই নয় খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক বিষয়ে বেশ খ্যাতি অর্জন করে বিদ্যালয়টি।

১৯৮৭ সালে এসএসসিতে ৯৯৯ নম্বর পেয়ে মো. জাহিদুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে দেশে প্রথম স্থান অধিকার লাভ করার খ্যাতি অর্জন করাসহ শতভাগ পাশ করে। ওই সময়ে গৌরীপুর ইউনিয়নে মাত্র ৩টি হাই স্কুল ছিল। কোন মাদ্রাসা ছিলনা। বর্তমানে এ ইউনিয়নে ৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৮টি মাদ্রাসা রয়েছে। সফলতা এবং পড়াশোনার মান ভালো হওয়ায় ইউনিয়নের পার্শবর্তী অন্য উপজেলার শিক্ষার্থীরাও আসতে শুরু করে। তখন প্রয়োজন হয় স্কুলটির সম্প্রসারণ ও অবকাঠামোর মান বৃদ্ধি করা। স্থানীয় লোকজন তাদের সাধ্যমত চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখেনি। তারপরেও স্থান সংকুলন হচ্ছিল না। ১৯৮৫ সালে সাবেক খনিজ সম্পদ ও জ্বালানী মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (এমপি) ভান্ডারিয়ায় আসলে তাঁকে তৎকালীন এবং প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত থাকায় স্পীডবোর্ডে স্কুলে নিয়ে যান। তখন স্কাউট লিডার স্যালুট প্রদর্শনসহ এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধণা প্রদান করে। পরে তাঁর কাছে (আনোয়ার হোসেন মঞ্জু’র) স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী, স্থানীয় প্রবীণ সমাজ সেবক, শিক্ষানুরাগী মানুষের দাবীর প্রেক্ষিতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু তাঁর ব্যক্তিগত অর্থায়নে প্রথমে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি এক তলা ভবনের ব্যবস্থা করেন। যেটি এখন প্রধান শিক্ষকের কক্ষ ও অফিস রুম। পরে পর্যায়ক্রমে একতলা বিশিষ্ট আর একটি ভবন নির্মান হয়।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গ্রামীণ জনপদের সে সময়কার সকল অবস্থা দেখে যোগাযোগ থেকে শুরু করে বিশেষত শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে তাঁর আন্তরিকতার কারণে বিদ্যালয়টিরও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু যখন প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসনিক উপদেষ্টা থাকেন তখন বিদ্যালয়ের আর একটি দ্বিতল ভবন ভিত্তিপ্রস্তর ও নির্মান শেষে গেল বছর উদ্বোধন করেন।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ চন্দ্র হালদার জানান, এখন বিদ্যালয়ে ১০ শিক্ষক, ২ জন তৃতীয় শ্রেণির এবং ২ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচরীসহ ১৪ জন এবং ৩শ’ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।

সাবেক প্রধান শিক্ষক জাতীয়পার্টি জেপির গৌরীপুর ইউনিয়ন সভাপতি আলি আহম্মেদ সিপাই জানান, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (এমপি) বরাবরই শিক্ষার প্রতি একটি সুদৃষ্টি ছিল। কারণ একটি দেশের কাঙ্খিত উন্নয়নে প্রয়োজন একটি সুশিক্ষিত সমাজ ব্যবস্থা। তাই তাঁর বিশেষ সুনজর এবং আন্তরিকতার কারনে এ বিদ্যালয়টি আজ অন্যান্য বিদ্যালয়ের চেয়ে অনেকাংশে উন্নত। এদিকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত (২০১৯সাল) বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশ বিদেশে থাকা ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে “এসো স্মৃতির অঙ্গনে, মিলি প্রীতির বন্ধনে” এ মূল মন্ত্রে আগামী ১৬ই মার্চ পালন করবে সুবর্ণ জয়ন্তী।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial