মঠবাড়িয়ায় সুন্দরবনের মায়াবী চিতল হরিণ উদ্ধার
মঠবাড়িয়ায় গ্রামবাসীর হাতে একটি মায়াবী চিতল হরিণ আটক হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বেতমোড় গ্রামে সুন্দরবণের এ হরিনটিকে ধাওয়া করে গ্রামবাসীরা আটক করে।
গ্রামবাসীর ধারণা চোরাই শিকারীদের ফাঁদে ধরা পড়ার পর লোকালয়ে এসে পালিয়ে গিয়ে হরিণটি অবমুক্ত হয়।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরিণটি বলেশ্বর নদ তীরবর্তী উপজেলার বেতমোর ইউনিয়নের বটতলার মাঠে ছোটাছুটির সময় গ্রামবাসীর নজরে পড়ে। এ সময় জনতার ধাওয়া খেয়ে ভীত হয়ে হরিনটি গ্রামের একটি পুকুরে পড়ে যায়। পরে গ্রামবাসী পুকুর থেকে হরিণটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার। খবর পেয়ে থানা পুলিশ হরিণটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাগেরহাট শরণখোলা রেঞ্জের বগী স্টেশন অফিসারের কাছে হস্তান্তর করেন।
এবিষয় বাগেরহাট শরণখোলা রেঞ্জের বগি স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমান মোল্লা জানান, হরিণটি আহত হওয়ায় শরণখোলা রেঞ্জের করমজল প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হবে।
সুন্দরবনের বগী স্টেশনের কর্মকর্তা (এফজি) মিজানুর রহমান বলেন, একই দিন দুপুরে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ ওই এলাকায় একটি জীবিত হরিণের ছোটাছুটি দেখতে পেয়ে মুঠোফোনে তাদেরকে অবগত করেন। এসময় তার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের বনরক্ষী ও (সিপিজির) একটি দল ট্রলারযোগে ওই এলাকায় পৌছায়। উদ্ধারের সময় হরিণটি কিছুটা আহত হওয়ায় চিকিৎসার জন্য হরিনটিকে মংলার করমজল প্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। পরে সুন্দরবনের গহীন বনে অবমুক্ত করা হবে।
তবে, বলেশ্বর নদী পাড় হয়ে কিভাবে সুন্দরবন থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দুরে ওই এলাকায় হরিণটি পৌছালো সে ব্যাপারে তিনি অবগত নন।
এ ব্যাপারে পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন জানান, উদ্ধারকৃত হরিণটির ওজন আনুমানিক ২ মন। প্রাথমিকভাবে জীবিত হরিণটি উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষে হরিণটি সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হবে। তবে, এঘটনার সাথে শিকারী চক্রের কোন সংশ্লিষ্টতার রয়েছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখা হবে।
