ইভটিজিং এ বাধা দেয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সন্তান গুরুতর আহত
ভান্ডারিয়ায় স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছাত্রীদের উত্তক্ত করায় বাঁধা দেয়ায় মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান তালুকদারের ছেলে আল আমিন (২৮) তালুকদারের উপর হামলা করে আহত করেছে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীরা। হামালায় গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে আল আমিন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ভান্ডারিয়া-মালিয়ারহাট সড়কের বাশের পোল নামক টেম্পুস্যান্ডে। এ বিষয়ে শনিবার আল আমিন বাদি হয়ে এবং যে সকল শিক্ষার্থীদের উত্তক্ত করা হতো তাদের অভিভাবকদের গণস্বাক্ষর নিয়ে ৪ জনকে আসামী করে থানায় একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।
স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গৌরীপুর, পৈকখালী, মাটিভাঙ্গাসহ পার্শবর্তী এলাকা থেকে স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়ার পথে পূর্ব ভান্ডারিয়া ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী নেয়ামুল সিকদার (২৮)এর নেতৃত্বে, শরিয়াতুল্লা (১৮), রফিকুল গাজী (১৯) রাকিব মিয়া (১৮) প্রতিদিন উত্তক্ত করতো। গত বৃহস্পতিবার স্কুল-কলেজ ছুটির পড়ে একই কাজ করতে গেলে তাতে বাঁধা দেয় আল আমিন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে বাক বিতন্ডার এক পর্যায়ে তারা সংগবদ্ধ হয়ে আল আমিনকে বেদড়ক মারপিট করে সড়কে ফেলে দেয়। এ সময় হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে আঘাত করায় আল আমিনের বাম কান ফেটে যায়। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় আল আমিনকে উদ্ধার করে ভান্ডারিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন।
এ বিষয়ে ভান্ডারিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মো. কাইয়ুম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আল আমিন বাদি হয়ে থানায় ৪ জনকে আসামী করে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। ওসি স্যার ছুটিতে থাকায় মামলা রুজু হয়নি। তবে স্যার আসলেই মামলা হবে এবং এর যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে, থানায় অভিযোগের ঘটনা শুনে অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিয়েছে। অন্যদিকে, পৈকখালীবাসি এ ধরনের ঘৃণ্য ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ২০ শিক্ষার্থীর অভিভাবক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অভিযুক্তদের দ্রুত সময়ে উপযুক্ত শাস্তি না দেয়া হলে তারা তাদের সন্তানকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো বন্ধ করে দেবে মর্মে একটি গণস্বাক্ষর করে থানায় জমা দিয়েছে বলে ওই এলাকার ইউপি সদস্য মো. দুলাল হাওলাদার জানান। দুলাল আরও জানান, কিছু দিন পূর্বে স্থানীয় একটি মেয়েকে ওই সব মাদক ব্যবসায়ীরা কুপ্রস্তাব দিলে তাতে মেয়েটি সায় না দিলে তাকে জোরপূর্বক তুলে নেয়ার সময় একই এলাকার সাহা তালুকদারের স্ত্রী মেয়েটিকে রক্ষা করে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুজন তালুকদার জানান, অভিযুক্তরা একটি বড় চক্রের যোগসাজসে দীর্ঘদিন ভান্ডারিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এদিকে, অভিযোগপত্র থেকে মাদক ব্যবসায়ী নেয়ামুলের নাম বাদ দেয়ার জন্য ভান্ডারিয়ার কিছু উঠতি বয়সী নেতারা আল আমীনের স্বজনদের উপর চাপ প্রয়োগ করে এবং থানায় গিয়েও পুলিশকে তার নাম বাদ দেয়ার জন্য তদবির চালায়।
