স্বরূপকাঠী পৌর মেয়র ও ৪ ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ষ্টাফ রিপোর্টার :
পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী পৌরসভার মেয়র ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে পিরোজপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছে উপজেলা বন কর্মকর্তা। স্বরূপকাঠী (নেছারাবাদ) উপজেলা বন কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেনকে মেয়রের রুমে ঢেকে নিয়ে মারধর করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়। উপজেলা বন কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে সোমবার এ মামলাটি দায়ের করেন।
আদালতের বিচারক মোঃ সাইফুজ্জামান শুনানি শেষে মামলাটি এফআইআর আকারে গ্রহণ করার জন্য স্বরূপকাঠী থানাকে নির্দেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল গোলপাতার আড়ালে সুন্দরবন থেকে এস এম সালাম রেজা নামের এক ব্যক্তি অবৈধভাবে সুন্দরী কাঠ বহন করে নেছারবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার কৌড়িখাড়ায় নিয়ে আসে। অবৈধভাবে আনা সুন্দরী কাঠ উপজেলা বন বিভাগ জব্দ করার পর সালামসহ আরেকজনকে আসামী করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে।
এ ঘটনার পর গত ৪ মে বিকেলে স্বরূপকাঠি পৌরসভার মেয়র জিএম গোলাম কবির তার কার্যালয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তা সাজ্জাদকে ডেকে নিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়। তাতে সে (বন কর্মকর্তা) রাজী না হওয়ায় পৌর মেয়র জিএম গোলাম কবির, আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখর সিকদার, সোহাগদল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মিয়া, সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদ করিম সবুর, সুটিয়াকাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ গাউস তালুকদার এবং স্থানীয় সাংবাদিক মোঃ কাওসার তালুকদার তাকে মারধর করে। পরবর্তীতে একটি সাদা কাগজে তার স্বাক্ষর নিয়ে তাকে ছেড়ে দেন।
এ বিষয়ে স্বরূপকাঠি পৌর সভার মেয়র গোলাম কবির জানান, জব্দকৃত গোলপাতা বিক্রি করে দেয়া হয়েছে- এই খবর পেয়ে বন কর্মকর্তাকে পৌর ভবনে ডেকে এনে ঘটনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেয় হয়। তাকে মারধর করার কোন ঘটনা ঘটেনি।
উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল কোষ্টগার্ড সদস্যদের সহায়তায় উপজেলার কৌড়িখাড়া বিসিক এলাকার খালে গোলপাতাবাহী একটি নৌকা সন্দেহ হলে তা আটক করা হয়। আটকের পর ঐ নৌকায় তল্লাশী চালালে গোলপাতার নিচে বিপুল পরিমান সুন্দরীকাঠসহ প্রায় ১৪শ’ ৪৮ ঘনফুট সুন্দরবনের চোরাই কাঠ ও ১৩শ’ ২০টি কাঠের গুড়ি পাওয়া যায়। এ ঘটনায় বনজ দ্রব্যের মূল্য ও আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ২ কোটি ৪ লাখ টাকা ধার্য করে বন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ সময় নৌকা থেকে আটককৃত সুন্দরবন সংলগ্ন শরনখোলা উপজেলার রায়েন্দা গ্রামের বেলায়েত হোসেনকে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন। এছাড়া ঐ নৌকায় করে আনা ২শ’ ৮৬ কুইন্টাল গোলপাতা উপজেলার সোহাগদল গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী এম এ সালাম রেজার জিম্মায় রাখা হয়।
পরবর্তিতে কাঠ পাঁচারকারী সিন্ডিকেট একত্রিত হয়ে অভিযোগ আনে উক্ত গোলপাতার একাংশ বন কর্মকর্তা বিক্রি করে দিয়েছেন। এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয় ভাবে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে বন কর্মকর্তা সাজ্জাদ দাবী করেছেন, সালাম রেজার কাছে জিম্মায় দেয়া গোলপাতা বিক্রি করার কোন সুযোগ নেই।
এরপর গত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বরূপকাঠি পৌরসভার মেয়র গোলাম কবির পৌর ভবনে ডেকে নিয়ে তাকে (বন কর্মকর্তা) কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানের সামনে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালিসহ দৈহিক ভাবে লাঞ্ছিত করেন। একপর্যায়ে আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখর কুমার সিকদার রিভলবার উঁচিয়ে তাকে জীবননাশের হুমকি দেন এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে পৌর ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পাশাপাশি বন কর্মকর্তার সাথে থাকা বন কর্মী মোঃ মনিরকে কতিপয় যুবক ধাওয়া করলে তিনি স্থানীয় কোষ্টগার্ড ক্যাম্পে আশ্রয় নেন।
