প্রধান সূচি

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় স্ত্রী ও শাশুড়িকে গলা কেটে হত্যা

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া গ্রামে স্ত্রী ও শাশুড়িকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনার পর ঘাতক মো. ওবায়দুল হক বাদল খান (৪৫) পলাতক রয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি কুঠার ও একটি দা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার ধাওয়া গ্রামে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া গ্রামের নূর মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী ফরিদা বেগম (৬৫) এবং তার মেয়ে চম্পা বেগম (৩৫)। অভিযুক্ত মো. ওবায়দুল হক বাদল খান একই এলাকার মৃত আজিজ খানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাদল খানের সাথে চাচাতো বোন চম্পা বেগমের সাথে তিন সপ্তাহ আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই চম্পাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বাদল। চম্পাকে বিয়ের আগেও বাদল আরও তিনটি বিয়ে করেন। তার নির্যাতনে আগের তিন স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়।
নিহত ফরিদা বেগমের বড় মেয়ে খাদিজা বেগম জানান, চাচাতো ভাই বাদলের সাথে চম্পার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় দাম্পত্য কলহ ও শারীরিক নির্যাতন। সোমবার রাতে মা ও বোনকে গলা কেটে হত্যা করে গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। এই সময় ঘরে থাকা বাদলের দ্বিতীয় স্ত্রীর শিশু সন্তান ইয়াসিন ঘর থেকে পালিয়ে পাশের বাড়ির লোকজনকে জানালে তারা এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে।
প্রতিবেশী নাছিমা বেগম বলের, ইয়াসিন ঘর থেকে পালিয়ে এসে ঘটনা জানালে ঘরের মধ্যে গিয়ে দু’জনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। এ সময় তাদের শরীরে আগুন জ্বলছিল। তখন পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলি। কী কারণে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে এ বিষয়ে কেউই কিছু বলতে পারেনি।
হত্যাকান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে ভান্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহমদ আনওয়ার বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। অভিযুক্ত বাদলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
পিরোজপুর পুলিশ সুপার খাঁন মুহাম্মদ আবু নাসের জানান, তদন্ত করে হত্যাকান্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। প্রকৃত আসামী আমরা সনাক্ত করতে পেরেছি। তাকে দ্রæত আটক করে আইনের আওতায় এনে তার শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial