পিরোজপুরের স্বরূপকাঠীতে শত কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সমবায় সমিতির পরিচালক : গ্রেফতারের দাবীতে থানা ঘেরাও সদস্যদের
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় ৫ সহস্রাধিক সদস্যের শত কোটি টাকার আমানত নিয়ে লাপাত্তা হওয়া আরামকাঠি সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির পরিচালক মো. রহমাত উল্লাহকে গ্রেফতারের দাবীতে থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী সদস্যরা। এ সসময় তারা ৫ দিনের মধ্যে সমিতির পরিচালক রহমাত উল্লাহকে গ্রেফতার করা না হলে বিক্ষোভকারীরা লাগাতার বড় কর্মসূচির হুসিয়ারি দেন।
সোমবার দুপুরে নেছারাবাদ থানার সামনে ভুক্তভোগী কয়েক’শ সদস্য মিছিল নিয়ে এসে জড়ো হন। এসময় পুলিশ থানার গেট বন্ধ করে বিক্ষুদ্ধ সদস্যদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। পরে ওই বিক্ষুদ্ধ জনতার মধ্য থেকে সালামুন আক্তার নামে এক তরুনীর নেতৃত্বে ৫জন সদস্য নেছারাবাদ থানার ওসির সাথে দেখা করে লাপাত্তা হওয়া সামতির পরিচালক রহমাত উল্লাহকে দ্রæত গ্রেফতারের দাবি জানান।
ওসি মো. বনি আমীন খুব দ্রæত সময়ের মধ্যে রহমাত উল্লাহকে গ্রেফতার করবেন বলে আশ্বস্ত করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এর পূর্বে ওই তরুনী সালামুনের নেতৃত্বে কয়েক’শত ভুক্তভোগী সদস্য নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদের গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সেখানে সালামুনসহ বক্তারা বলেন, গত ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যার পরে সমিতির পরিচালকের লাপাত্তার খবরে কয়েক হাজার গ্রাহক আরামকাঠির শান্তিরহাট গ্রামে রহমাত উল্লাহর বাসায় জড়ো হয়েছিলেন। তখন সদস্যরা সমিতির ম্যানেজার বেল্লাল হোসেনসহ কয়েকজন মাঠকর্মীকে ঘেরাও করে রাখে। সে সময়ে পুলিশ সেনাবাহিনীর সহাতায় তাদের গ্রেফতার করে রাতেই থানায় নিয়ে আসেন। পরে ২০ এপ্রিল বিকেলে সমিতির মিরাজুল ইসলাম নামে এক সদস্য বাদী হয়ে পরিচালক মো. রহমাত উল্লাহ, শাহনাজ পারভীন, ম্যানেজার বেল্লাল হোসেনসহ ১৩ জন নামীয়সহ আরো অজ্ঞাত ২০/২৫ জনের বিরুদ্ধে নেছারাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এতদিনেও মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তাকে গ্রেফতার করতে না পারায় ভুক্তোভোগী সদস্যরা পুলিশের উদাসীনতা বলে দাবি করেছেন। একইসাথে বক্তারা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকেও এর সাথে জড়িত বলে অভিযোগ তোলেন।
এসময় বক্তারা বলেন, আগামী ৫ দিনের মধ্যে পুলিশ যদি রহমাত উল্লাহকে গ্রেফতার না করে তাহলে বড় ধরণের লাগাতর কর্মসূচি শুরু হবে।
তবে পুলিশ বলছে রহমাত উল্লাহকে গ্রেফতারের সব ধরণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পরে প্রতিবাদকারীরা সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে থানার সামনে জড়ো হন। এসময় পুলিশ থানার গেট বন্ধ করে থানার সামনে বসে বিক্ষুদ্ধ জনতাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। পরে নেছারাবাদ থানার অফিসার ওসি এসে উত্তেজিত বিক্ষুদ্ধ জনতার সামনে দ্রæত সময়ের মধ্য রহমাত উল্লাহকে গ্রেফতার করা হবে বলে আশ্বস্ত করলে তারা থানা এলাকা ত্যাগ করেন।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. হাসান রকি জানান, আরামকাঠির সমবায় সমিতির পরিচালক রহমাত কান্ডে আমরা ভুক্তভোগীদের জন্য সর্বাত্মক কাজ করছি। এজন্য সমিতির নামে পরিচালিত দুইটি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। বিভাগীয় সমবায় কার্যালয় থেকে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। সমিতির নামে ৫০২.৫০ একর জমির একটি হিসাব পাওয়া গেছে। এই জমি যাতে বেচা বিক্রি না হয় সে কারনে উপজেলা এবং জেলা সাব-রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ে পত্র মারফত জানানো হয়েছে। এমনকি বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি অর্ন্তবর্তীকালীন কমিটি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নেছারাবাদ থানার অফিসার ওসি মো. বনি আমীন জানান, সমিতির পরিচালক রহমাত উল্লাহসহ বাকি পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের সব ধরণের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এ ব্যাপারে পুলিশের কোন উদাসিনতা নেই।
