মডেল উপজেলা গড়ে তোলার রূপকার মিরাজুল ইসলাম
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম। যিনি নির্বাচিত হয়ে মডেল উপজেলা গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। এলাকাবাসী মনে করেন, তিনি সফলও হয়েছেন। নিজের কর্মদক্ষতা এবং বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে আধুনিক ভান্ডারিয়া রূপ দিতে সক্ষম হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া এই চেয়ারম্যান। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০১৯ এর জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ উপজেলা পদকে ভূষিত ও হয়েছেন।
তিনি উপজেলা পরিষদের নান্দনিক স্থাপত্য ভবন, নয়নাভিরাম অডিটরিয়াম, দৃষ্টিনন্দন প্রবেশ গেট, আধুনিক ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম, বড় পর্দার স্ক্রিন, ফুল আর ফলের বাগানে সজ্জিত বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান, তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত তোরণ বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন উপজেলাবাসীকে।
২১ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালনের জন্য উপজেলার প্রতিটি কলেজ, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুদান দিয়ে থাকেন মো. মিরাজুল ইসলাম।
একইসাথে গরীব ও অসহায়দের বিনামূল্যে চিৎকিসা ও ওষুধ বিতরণ, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়াসহ উপজেলাজুড়ে বালক বালিকাদের মাঝে বিতরণ করেছেন ক্রীড়া সামগ্রী। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার বড় চ্যালেঞ্জ ছিল উপজেলাকে মাদক মুক্ত করা। সে কারণে যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে মাদক বিরোধী প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ, ব্যানার এবং গ্রুপভিত্তিক বছরজুড়ে তার মাদক বিরোধী কার্যক্রম জনগণের কাছে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এভাবেই ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলামের কথাগুলো বলছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা আলি আকবর।
আলী আকবর জানান, শুধুমাত্র উপজেলার উন্নয়নেই নয়, বরং দলীয় কাজেও তিনি পারদর্শিতার প্রমাণ দিয়েছেন বহুবার। উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তিনি তৈরী করেন ১৮০ ফুট দৈর্ঘ্যর নৌকা আকৃতির মঞ্চ। পাশে সংযোজন করেন ২৮০ ফুট পদ্মা সেতুর মডেল, রেল লাইন আর রিমোট কন্টোল গাড়ি চলাচলের নমুনা। যা দেখে মানুষ মোহিত হয়ে পড়েন।
অন্যদিকে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস শুরু হলে মহামারি ঠেকাতে উপজেলার লোকসমাগম ঘটে এমন ছয়টি স্থানে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি। বিতরণ করেছেন ৫০ হাজার মাস্ক, ২৫ হাজার হ্যান্ডসেনিটাইজার, ৫ হাজার পিপিই ও হ্যান্ডগ্লাভস।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেন সমান পরিমাণ উপকরণ ও নগদ ১০ লক্ষ টাকা। সাথে ২৪ ঘন্টা ফ্রি এম্বুলেন্স, লকডাউন থাকার কারণে ভ্রাম্যমাণ কাচাবাজার, জরুরী শিশুখাদ্য সাতটি গাড়িতে করে টিম সদস্যদের মাধ্যমে পৌঁছে দেয়া হয়। করোনার প্রার্দুভাব বৃদ্ধি পেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেটে করোনার নমুনা সংগ্রহের বুথ স্থাপন ও হাসপাতালের প্রবেশদ্বারে জীবাণুনাশক টানেল তৈরী করে দিয়ে আলোচনার শিরোনাম হন তিনি।
এছাড়া ঈদুল ফিতরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বরূপ মানবিক সহায়তা খাদ্য সামগ্রী ৭২ হাজার পরিবারের বাড়ি পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। বিভিন্ন সংগঠনে প্রণোদনার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তিনি। এমন অনেক মানবিক কাজের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন মো. মিরাজুল ইসলাম।
করোনা দুর্যোগের মধ্যেই দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানে শক্তিশালী ঘুর্ণিঝড় আম্পান। এতে ভান্ডারিয়া সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পানিতে প্লাবিত হয়। এতে অসহায় হয়ে পড়ে ওই ইউনিয়নগুলোর মানুষ। আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ এসব পরিবারের পাশে দাঁড়ান উপজেলা চেয়ারম্যান। বাড়িয়ে দেন সহায়তার হাত। নগদ অর্থ, চিড়া, মুড়ি, শিশুখাদ্য, রেইন কোর্ট, ছাতা বিতরণ করেন দুর্গতদের মাঝে। উপজেলায় কন্ট্রোল রুম ও হটলাইন সার্ভিস চালু করেন স্কাউটসহ সবার সহযোগিতায়।
বর্তমান সময়ে পুরো উপজেলায় করণীয় কল্যাণকর কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন উপজেলা পরিষদের জনপ্রিয় এই চেয়ারম্যান। মডেল উপজেলা বাস্তবায়নে কাজ করছেন তিনি।
চলতি রমজানে তিনি উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে এতিমদের নিয়ে ইফতার মাহফিল ও দোয়া মোনাজাতের আয়োজন করছেন। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে এতিমদের সাথে ইফতার করছেন।
এ বিষয়ে মিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি প্রচারে বিশ্বাসী নই, কাজে বিশ্বাসী। তবে ভালো কাজের প্রচার ও সহযোগিতা করলে কৃতজ্ঞ থাকবো।
