এক কাঠি আমন ধানের বীজ ১০ হাজার টাকা !
আউশ ধানের মৌসুম শেষে এখন পুরোদমে চলছে আমন ধান চাষের মৌসুম। আর এ চাষ চলবে পুরো ভাদ্র মাস পর্যন্ত। তবে স্থান ভেদে আশ্বিন মাসের প্রথম দিকও অনেক কৃষকের লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেক কৃষক। আমন ধান চাষের ভর মৌসুম চললেও ধান বীজ নিয়ে কৃষকরা আছেন মহাদু:চিন্তায়। ধান বীজের রয়েছে সংকট। তাই দামও বেশ চড়া।
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় এক কাঠী আমন ধানের বীজের মূল্য ১০ হাজার টাকায় কিনে নিচ্ছে পার্শবর্তী মঠবাড়িয়া, আমুয়াসহ দক্ষিণের বিভিন্ন উপজেলার কৃষক।
সোমবার রাতে ভান্ডারিয়া-মঠবাড়িয়া সড়কের বটতলা নামক স্থানে সড়ক পথে ইঞ্জিন চালিত দুটি টমটমে করে ভান্ডারিয়া থেকে পার্শবর্তী মঠবাড়িয়া এবং আমুয়া উপজেলার কৃষক এ বীজ নিয়ে যাওয়ার সময়ে আলাপকালে কৃষক মিঠু, রাজুসহ কয়েকজন জানান, তাদের মঠবাড়িয়া উপজেলার প্রায় ৯০ শতাংশ জমির আমন বীজ পঁচে যাওয়ায় তারা পার্শবর্তী ভান্ডারিয়া, রাজাপুর উপজেলা থেকে এসব বীজ তাদের মাঠে রোপনের জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তারা কেউ খোলা অর্থাৎ বীজ ক্ষেত, আবার কেউ পোন হিসেবে এ বীজ ক্রয় করে থাকেন। এক পোন অর্থাৎ স্থানীয় ভাষায় ৮০ কোচায় (আটিতে) আমন বীজের মূল্য ১২শ’ থেকে ১৪শ’ টাকায় তারা কিনে এনেছেন।
ভান্ডারিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দল্লাহ আল মামুন জানান, ভান্ডারিয়া পৌরসভাসহ উপজেলার বাকি ৬টি ইউনিয়নে কৃষকরা সচেতন থাকায় এ বছর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আউশের ফলন ভাল হয়েছে। বর্তমান আমন মৌসুমে টার্গেট ধরা হয়েছে ২৬শ’ হেক্টর জমি। তাতে আমাদের কৃষকরা নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত চারা বিক্রি করছের বেশ ভাল দামে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রবীণ কৃষক মো. জাকির হোসেন, গৌরীপুর ইউনিয়নের মো. ইদ্রিস আলী, শংকর মন্ডল, ইকড়ি ইউনিয়নের কবির সিকদার, ভান্ডারিয়া সদরের মো. বারেক হাওলাদার তাদের নিজেদের তাদের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত বীজ বিক্রি করেছেন। এক কাঠি অর্থাৎ ২৬ কেজি ধানের বীজ বিক্রি করছেন ১০ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দল্লাহ আল মামুন আরো জানান, পার্শবর্তী মঠবাড়িয়া, কাঠালিয়া, আমুয়াসহ দক্ষিণের উপজেলাগুলোতে অতিরিক্ত পানির ফলে তাদের আমন বীজ নষ্ট হওয়ায় তারা অন্য যে সকল উপজেলার কৃষকের বাড়তি বীজ আছে তাদের কাছ থেকে ক্রয় করে নিজেদের জমিতে রোপনের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান জানান, আমাদের উপজেলায় প্রায় ১৫০টির অধিক কৃষক-কৃষাণীর আইসিএম, আইপিএম নামে কৃষক সংগঠন আছে। তাদের ধান, পান, ফলদ, বনজ ও মৌসুমী সবজি চাষে বিভিন্ন সময়ে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিকভাবে পরামর্শ দেওয়ার ফলে আমাদের উপজেলার কৃষকরা যেমন সচেতন তেমনি প্রাকৃতিক বড় ধরণের বিপদ ছাড়া তাদের কোন অসুবিধা হয়না।
