আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের দেশের সামাজিক অবস্থান এখন অনেক উচ্চে … আনোয়ার হোসেন মঞ্জু
জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের দেশের সামাজিক অবস্থান এখন অনেক উচ্চে। গত ১০/১১ বছরে বিদেশে আমাদের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হয়েছে। নতুন প্রজন্ম আজ বাংলাদেশের গর্বিত সন্তান তথা মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক। ‘নাসা’সহ বৈশি^ক কর্মক্ষেত্রে বাংলাদেশ মানে হলো দায়িত্বশীলতা ও দক্ষতা।
বুধবার বিকেলে পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়ায় বিহারী লাল মৈত্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চতুর্থ উপজেলা স্কাউট সমাবেশ ২০২০’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ অবশ্যই সুন্দর। আমরা যে বাংলাদেশে গঠন করে ছিলাম তখন আত্মসম্মানবোধের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে ছিলাম। কিন্তু আজকের প্রজন্ম একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক পরিচয়ে আগামীতে জাতিকে উচ্চশিরে নেতৃত্ব দানে নিজেদেরকে উপযোগী করে চলছে। দেশ ও মানুষের সেবার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে কৈশোর থেকে হাতে কলমে শিক্ষা গ্রহণে স্কাউটিং হচ্ছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কার্যকর মাধ্যম। শৈশবে কাব ও কৈশোরে স্কাউটিংয়ের সাথে নিজের সক্রিয় সম্পৃক্ততার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, স্কাউটিংয়ে দীক্ষা নেয়ার সময় যে শপথবাক্য পাঠ করেছিলাম তা আজও আমার মানসপটে ভাস্বর হয়ে আছে। “আমি আমার আত্মমর্যদার উপর বিশ^াস রেখে, সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে শপথ করছি যে আমি নিজেকে দেশ ও মানুষের সেবায় নিয়োজিত রাখবো” এই শপথবাক্য আমাকে সব সময় অনুপ্রাণিত করে। শপথবাক্যে উচ্চারিত এই সেবার সর্বোচ্চ পর্যায়ে হচ্ছে রাজনীতি তথা দেশ সেবা। আমরা যাঁরা রাজনীতি করি তাঁরা কেউ কেউ নিজের সম্মান সম্পর্কে সচেতন নই। মানুষ আমাদের কাজ নিয়ে অনেক সময় তীর্যক কথা বলে। নতুন প্রজন্মকে এই শপথের কথা মনে করে শুধু জনসেবা বা দেশ সেবায় ব্রতী হলেই চলবে না, ধার্মিকও হতে হবে। দেশ সেবার জন্য আর্থিকভাবেও স্বাবলম্বি হতে হবে, যে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি হতে পারে না তার সম্মান থাকে না। একজন ভিক্ষুকের মধ্যে আত্মসম্মানবোধ বা ব্যক্তিত্ববোধ থাকে না। এ সব গুণ অর্জনে ভালোভাবে লেখা-পড়া করতে হবে। লেখা-পাড়া করার পরও আর্থিকভাবে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে যায়। আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা জীবনের সাথে সম্পর্কহীন বলে অর্জিত শিক্ষা জীবনের কি কাজে লাগবে, কোথায় কার্যকর হবে, কোথায় ব্যবহার করতে হবে সে সম্পর্কে অনেকের ধারণার অভাব রয়েছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে স্কাউট আন্দোলনের মত সহশিক্ষা কার্যক্রমের আবশ্যকতা অপরিসীম। যারা স্কাউটিং করে তাদের মধ্যে জ্ঞান, মেধা, দেশাত্ববোধ, প্রশিক্ষণজাত অভিজ্ঞতা, সদাচারণ, আনুুগত্য, ভদ্রতাবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ ইত্যাদি বৈশিষ্ট জন্ম নেয়। পাশাপাশি নিয়মিত লেখা-পড়া মাধ্যমে দায়িত্ববোধ, বিনয়, অহংবোধ জাগ্রত হয়। এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্কাউট সমাবেশ প্রধান ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল আলমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সমাবেশের শিবির প্রধান ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জহিরুল আলম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি জাতীয় পতাকা ও ইউএনও মো. নাজমুল আলম সমাবেশ পতাকা উত্তোলন করেন। ভাণ্ডারিয়ার উপজেলা স্কাউট সমাবেশে ১৪টি বিদ্যালয় থেকে কাব, বয় স্কাউট ও গার্ল ইন স্কাউট এবং স্কাউটার নিয়ে ২০০ অংশগ্রহণকারী রয়েছেন। তিন দিনব্যাপী এ সমাবেশ চলবে। এ অনুষ্ঠানে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেপি’র উপজেলা আহ্বায়ক মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, জেপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, জেপি’র সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি উপকরণ বিতরণ
ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত এর আগের এক অনুষ্ঠানে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। এখানে তিনি বলেন, আমরা যদি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে না পারি তাহলে ব্রীজ-কালভার্ট, রাস্তা-ঘাট নির্মাণ অর্থহীন হয়ে যাবে। এ এলাকার মানুষ কৃষি উৎপাদনে এখনও পিছিয়ে আছে। মানুষ এখনও কৃষি কাজে অলস রয়ে গেছে। এ অঞ্চলের মানুষের কৃষিতে অনীহার কারণ কি তা খুঁজে বের করতে হবে। উত্তর বঙ্গে ১৪/১৫ বছর আগেও খাদ্যের অভাব ছিলো, আজ নেই। উত্তর বঙ্গের মত আমাদের এ অঞ্চলেও কৃষিতে বহুমুখীকরণ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে ফলসহ বৈচিত্রময় কৃষি আবাদের আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। যার যার খাদ্য নিজেদেরই তৈরী করতে হবে, তা না হলে ভবিষ্যতে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। আল্লাহ কাজ করে জীবন ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের এলাকায় আল্লাহর অসীম রহমতে জমি ও পানির মান ভালো, যা কাজে লাগাতে হবে। ভাণ্ডারিয়ার পাঁচটি ইউনিয়নে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বেড়ীবাঁধের সুফল কাজে লাগিয়ে ফসল উৎপাদন ক্ষেত্রে আগামীতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। যা সারা দেশে কৃষি বিপ্লব চলমান তার সাথে এলাকার মানুষের একাত্বতা নিশ্চিত হবে। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ২০১৯-২০ অর্থ বছরে রবি মৌসুমে ভূট্টা, শীতকালীন/গ্রীষ্মকালীন মুগ ও বসতবাড়ীর আশেপাশে শাকসবজি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এ ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ৭৭০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ অনুষ্ঠানে ইউএনও মো. নাজমুল আলমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
