প্রধান সূচি

ভান্ডারিয়ায় আরবী হরফে তিন ইসলামী স্তম্ভ

দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে একমাত্র ঐতিহ্যবাহী ভান্ডারিয়ায় পবিত্র আরবী হরফের ক্যালিগ্রাফিতে গড়ে তোলা হয়েছে তিনটি ইসলামী স্তম্ভ। তিনটির মধ্যে প্রথমটি ১৯৯৮ সালে ভান্ডারিয়া উপজেলার স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডে তোলা হয় কলেমা চত্বর। আনুমানিক ৩২০ ফুট গোলাকার স্থানে প্রায় ২০ ফুট উঁচু মাটির ডিবির উপরে সাড়ে ১৭ ফুট উঁচু আরবী হরফে নির্মিত এই স্তম্ভের চারিপাশে শোভাবর্ধনে স্টীল বেস্টনির মধ্যে রয়েছে দৃষ্টি নন্দিত সবুজের সমরোহ। অতীতে এখানে ছিল পরিত্যাক্ত অবস্থায়। বর্তমানে অধীক রাত পর্যন্ত থাকে মানুষের সমাগম। এখানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের দুরপাল্লার যানবাহন ছেড়ে যায় এবং অবস্থান করে। ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মানের পড়ে ওই বছরের ২৪শে মে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

এর পরে দ্বিতীয় স্তম্ভটি নির্মান করা হয় উপজেলার চরখালি ফেরিঘাট এলাকায় ২০০০ সালে। ভান্ডারিয়া-চরখালি-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়কের মোহনায় ত্রিকোনমিতি আকৃতির একটি মিনারের দুই পৃষ্ঠেই আরবী হরফে ১বিসমিল্লাহ্রি রাহ্মানির রাহীম’ লেখা হয়েছে। সে জন্য ওই স্থানকে বলা হয় বিসমিল্লাহ্ চত্বর। যা পরবর্তীতে দৃষ্টি নন্দিত করতে গেল বছর লাল সবুজের রং এ রাঙানো হয়েছে। যা দেখে পথচারীদের মন আকৃষ্ট হয়।

তৃতীয়টি ২০১৭ সালে উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়নের ফুলতলার মোড় নামকস্থানে ত্রিকোনমিতি গম্ভুজ আকারে প্রায় ২০ ফুট সুউচ্চ মিনারের উভয় পাশেই আরবী হরফে সুবাহানাল্লাহ্ লেখা রয়েছে। এটির নিচের অংশে আরবী হরফে আল্লাহর ৯৯ নাম লেখা রয়েছে যা এখন সুবাহানাল্লাহ চত্বর নামে খ্যাত। ২০১৭ সালের ১০মে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন সাবেক পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি।

বাসস্ট্যান্ডের বাসিন্দা সমাজ সেবক মো. সেন্টু মোল্লা জানান, এই স্থানে আমার আব্বা মরহুম ইয়াসিন মোল্লা বাৎসরিক মাহফিলের ব্যবস্থা করে। তার পর বরিশাল বিভাগের মধ্যে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলা শহরের সাথে যোগাযোগের জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে কালেমা চত্বর নামে এ স্তম্ভ নির্মান করেন সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী, জাতীয়পার্টি জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি।

চরখালির বাসিন্দা মেজবা উদ্দিন আরিফ জোমাদ্দার জানান, চরখালিতে বিসমিল্লাহ্ চত্বরটি করায় এখানকার মুসুল্লিরাই নয় মঠবাড়িয়া, পাথরঘাটা, পিরোজপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমা এবং উত্তর অঞ্চলের সাথে সড়ক পথে থেকে যে সকল লোক যাতায়াত করে তারা এটি দেখে মুগ্ধ হন। এটি সাবেক মন্ত্রী, জাতীয়পার্টি জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মান করায় তার এই চত্বর লাগোয়া যে সকল মসজিদ আছে সেখানে তাঁর জন্য (আনোয়ার হোসেন মঞ্জু’র জন্য) দীর্ঘায়ূ কামনায় দোয়া করা হয়।

ধাওয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুর রহমান টুলু জানান, ভান্ডারিয়া উপজেলা সদরের সাথে ধাওয়া, ইকড়ি, তেলিখালী ইউনিয়নে যোগাযোগের জন্য সহজ পথের এই মোড়ে আল্লাহতালার ৯৯ নাম সম্বলিত সুবাহানাল্লা চত্বরটি নির্মান করায় এ অঞ্চলের মুরুব্বিসহ সকল মুসুল্লিরা এটি দেখে মুগ্ধ হন এবং ইসলামের প্রতি তাদের একটি নমনীয় ভাব প্রকাশ পায়। আর এটি আমাদের অভিভাবক প্রাণপ্রিয় নেতা জাতীয়পার্টি জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মান করায় তাঁর জন্য এ এলাকার আপামর জনসাধারণ প্রাণ ভরে দোয়া করেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial