জেডিসি পরীক্ষায় ভূয়া পরীক্ষার্থী
ভান্ডারিয়ায় কেন্দ্র সচিব ও মাদ্রাসা সুপারসহ ৭ জন আটক
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় জেডিসি পরীক্ষায় আসল পরীক্ষার্থীর বদলে অন্যদের দিয়ে (প্রক্সি) পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগে কেন্দ্র সচিব ও মাদ্রাসা সুপারসহ ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম পশারীবুনিয়ার নিভৃত পল্লীতে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত বিপিএম দাখিল মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে শনিবার জুনিয়র দাখিল পরীক্ষা (জেডিসি) ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে ৫ ভূয়া পরীক্ষার্থীকে সনাক্ত করেন। মূল পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগে তাদেরকে তাৎক্ষনিক আটক করা হয়
এছাড়া আর্থিক সুবিধা নিয়ে ভূয়া পরীক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরীক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব মাওলানা মো. আমির হোসেন ও উপজেলার হরিণপালা নেছারিয়া সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার মো. সিদ্দিকুর রহমানকে আটক করে। উল্লেখ্য, কেন্দ্র সচিব মাওলানা মো. আমির হোসেন জামায়াত ইসলামীর ভান্ডারিয়া উপজেলা শাখার আমির।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পশ্চিম গোলবুনিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসার নিয়মিত পরীক্ষার্থী মুনিয়া আক্তার (রোল ৩০৬৫৪৯) এর পরিবর্তে হাফিজা আক্তার, রুমী আক্তার (রোল ৩০৬৫৫০) এর পরিবর্তে কারিমা আক্তার, নূপুর আক্তারের পরিবর্তে ফাজিল পরীক্ষার্থী মুনিয়া হাওলাদার, সোনিয়া আক্তার (রোল-৩০৬৫৪১) এর পরিবর্তে বকুল আক্তার, হরিণপালা নেছারিয়া ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসা পরীক্ষার্থী বায়জিদ হোসেন (রোল-৩০৬৩৮৬) এর পরিবর্তে মো. মমিনুল ইসলাম পরীক্ষায় অংশ নেয়।
ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল আলম জানান, মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্র-২ বিপিএম দাখিল মাদ্রাসার কেন্দ্র সচিব মাওলানা আমীর হোসেন (ভা-ারিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির)সহ মোট ৭ জন আটক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্র বাতিল ও সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলোর এমপিও বাতিলের জন্য বাংলাদেশ মাদ্রাসা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে চিঠি পাঠানো হবে।
ভান্ডারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) ফরিদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. এমাদুল হক বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
