ভান্ডারিয়ায় ৪২টি মন্দির মন্ডবে চলছে দুর্গা পূজার প্রস্তুতি
সারা দেশের ন্যায় ভান্ডারিয়া পৌর শহরসহ উপজেলার অন্য ছয়টি ইউনিয়নের শিকোর, তরুন-তরুনী, যুবক-যুবতীসহ সব বয়সী মানুষই বছরের শুরু থেকেই এই উৎসবের অপেক্ষায় থাকে। আর এই পূজোকে ঘিরে সর্বত্র উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রতিমা নির্মান, মন্দির, বাড়ি, ঘরে চলছে সাজসজ্জার প্রস্তুতি। এবছর এ উপজেলায় মোট ৪২টি মন্দির ও মন্ডবে অনুষ্ঠিত হবে মহিষাসুর মর্দিনী দেবী দুর্গার পূজা। এর মধ্যে ভান্ডারিয়া উপজেলা সদরের পৌর শহরে উপজেলা কেন্দ্রীয় মদন মোহন জিউর মন্দিরসহ ৭টি মন্দিরে, ১নং ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নে ৮টি, ২নং নদমূল্লা শিয়ালকাঠী ইউনিয়নে ৭টি, ৩নং তেলিখালি ইউনিয়নে ৩টি, ৪নং ইকড়ি ইউনিয়নে ৭টি, ৫নং ধাওয়া ইইনয়নে ৭টি ও ৬নং গৌরীপুর ইউনিয়নে ২টি মন্দির সহ উপজেলায় মোট ৪২টি মন্দিরে এবছর দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
সাবেক মন্ত্রী জাতীয় পার্টি জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি সোমবার তার ভান্ডারিয়াস্থ্য বাস ভবন তাসমিমা ভিলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বছরের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব সুষ্ঠ এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে উদযাপনের জন্য পৃথক ভাবে উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি জেপি, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌর কাউন্সিলরদের সাথে পৃথক ভাবে মতবিনিময় করেন বলে জানা গেছে।
এদিকে পূজাকে সুষ্ঠ এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের এবং উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাথে গত বৃহস্পতিবার সভা করা হয়েছে। সভায় প্রতি মন্দির ও মন্ডবে সরকারি জি. আর (জেনারেল অনুদান) হিসেবে ৫০০ কেজি চাল বিতরণ করা হবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাস মো. নাজমুল আলম।
ভান্ডারিয়া থানা ইকো পার্কে বুধবার পূজা মন্দির ও মন্ডবে শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান বজায় রাখতে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও পূজা মন্দির ও মন্ডবের আয়োজক বৃন্দের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ছাড়াও, আনছার বিডিপি থাকবে বলে জানান থানার অফিসার ইন চার্জ এস এম মাকসুদুর রহমান।
এদিকে উপজেলা কেন্দ্রীয় মদন মোহন জিউর মন্দিরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম মিরাজ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটি এবং উপজেলার প্রতিটি মন্দির কমিটির সভাপতি, সম্পাদকদের সাথে পৃথক এক মতবিনিময় সভা করেছে বলে জানান উপজেলা পূজা উদযাপন এবং হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টাণ ঐক্য পরিষদের সভাপতি কিরন চন্দ্র বসু। তিনি জানান, এ বছরের পূজা নান্দনিক এবং উৎসব মূখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত ভাবে প্রতি মন্দিরে ১০হাজার টাকা অনুদান এবং মন্দির গুলো সংস্কার করতে কেন্দ্রীয় মন্দিরে ২লাখ ও অন্য সকল মন্দিরে ১লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন বলেও জানান কিরন চন্দ্র বসু। এই অনুদানে উচ্ছ্বসিত সকল মন্দিরের আয়োজক বৃন্দ ছাড়াও স্ব স্ব মন্দির এলাকার হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।
অন্যদিকে উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি কিরন চন্দ্র বসু ও সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার দাস জানান, “ধর্ম যার যার রাস্ট্র সবার”এই মূল মন্ত্রে অতীতের ন্যায় এ বছরও এ উপজেলার সকল পূজা মন্দির ও মন্ডবে পূজা সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে উদ্যাপনের জন্য আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা, সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি সর্বাত্মক চেষ্টা ও সহযোগিতা করে আসছে। তাছাড়া উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, পুলিশ প্রশাসন যথেষ্ট আন্তিরকতার সহিত আমাদের নেতৃবৃন্দের সাথে পৃথক ভাবে মতবিনিময় করেছেন। এসময় তিনি সকল প্রকার যোগাযোগের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।
