প্রধান সূচি

ভান্ডারিয়ার বাসযাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার বাস যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে। ভান্ডারিয়া বাসস্ট্যান্ডে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্ট্যান্ডে ঝালকাঠী মালিক সমিতির বরিশালগামী কোন বাস নেই। স্ট্যান্ডের অনতিদুরে ভান্ডারিয়ার বটতলা নামক স্থানে (ঝালকাঠীর রাজাপুর অংশে) ভান্ডারিয়া-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের উপর দীর্ঘ লাইনে বেশ কয়েকটি বাস পার্কিং করা রয়েছে। ওই বাসে করে বরিশাল, ঢাকায় যাওয়ার জন্য ভান্ডারিয়াসহ পার্শবর্তী দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাস যাত্রীদের রিক্সা, ইজি বাইক, ল্যাগুনা করে বাসে উঠতে দেখা গেছে। এসময় যাত্রী সঞ্জয় কুমার, আরিফসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের জরুরী কাজের জন্য বরিশাল এবং লঞ্চে ঢাকায় যাওয়ার জন্য  ভান্ডারিয়া বাস স্ট্যান্ড থেকে বাসে যাতায়াত করতেন। বেশ কয়েকদিন ধরে বটতলা থেকে বাসে যাতায়াত করতে হয়। শুধু তাই নয় ৪/৫ দিন আগে ভান্ডারিয়া বাস স্ট্যান্ড থেকে বরিশাল রূপাতলি যেতে ভাড়া লাগত ৮৫ টাকা। এখন বটতলা এসে বাসে ওঠা পর্যন্ত রিক্সা ভাড়া লাগে ২০ টাকা, তারপর ৭০ টাকা বাস ভাড়া দিয়ে ঝালকাঠির কালিজিরা পর্যন্ত যেতে হয়। সেখান থেকে ৩০/৪০ টাকায় রূপাতলী যেতে হয়। সর্বমোট রিক্সা ভাড়াসহ ১৫০ টাকা বরিশাল যেতে খরচ হয়। এতে ৬৫ টাকা বেশি গুনতে হয় যাত্রীদের আর দুর্ভোগতো রয়েছেই।

ঝালকাঠি বাস ও মিনি বাস মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি সমিতির রংধনু নামে একটি বাসের চালক মিলন হাওলাদারের কাছে গত শনিবার বরিশাল রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে মালিক সমিতির লোকজন স্ট্যান্ড ফি বাবদ ১০০০ টাকা চাঁদা দাবি করে। প্রকৃতপক্ষে চাঁদার পরিমান ৯০ টাকা। এ টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় বরিশাল-পটুয়াখালী বাস, মিনিবাস মালিক সমিতির লোকজন ঝালকাঠির বাস চালক মিলনকে মারধর করে। এর প্রতিবাদে ঝালকাঠী মালিক সমিতি অভ্যন্তরীন রুটসহ দক্ষিণ, পশ্চিমাঞ্চলের ১৮টি রুটে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেন। উভয় গ্রুপের কর্মসূচির মধ্যে বরিশালের সাথে যুক্ত হয় পিরোজপুর মালিক সমিতি। যার প্রভার পড়ে ভান্ডারিয়া বাস স্ট্যান্ডে। যদিও একদিন বন্ধ থাকার পরে ঝালকাঠী সমিতির বাস পিরোজপুরে ঢুকতে না পারলেও পিরোজপুরের উত্তর-পূর্ব সীমানা ভান্ডারিয়ার সীমান্ত এলাকা বটতলা পর্যন্ত আসে। সেখান থেকে ভান্ডারিয়াসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের বরিশাল বা ঢাকা যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভান্ডারিয়া থেকে বরিশাল যেতে দুইবার বাস পাল্টাতে হয়। দুইবার বাস পাল্টানো এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে বিকল্প যানবাহনে একদিকে অতিরিক্ত খরচ অন্য দিকে বেশি হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বয়স্ক ও শিশু এবং রোগিদের। ঝামেলায় পড়তে হয় যাত্রীদের। রূপাতলী থেকে ৪ কিলোমিটার দুরে গিয়ে ঝালকাঠির কালিজিরা এলাকা থেকে ঝালকাঠি, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা, পিরোজপুরসহ দক্ষিণ, পশ্চিমাঞ্চলের ৭ রুটে বাস যাত্রীদের যেতে হয় নানা ব্যবস্থায়।

এ বিষয়ে পিরোজপুর বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সদস্য বাস মালিক আব্দুর রহমান আসতে না পারলেও তারা ভান্ডারিয়া-রাজাপুরের সীমান্ত বটতলা থেকে বাসে যেতে পারে। তবে কতদিনে এটি সমাধান হবে সে সম্পর্কে তিনি সুস্পষ্ট কিছু বলতে পারেননি।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial