প্রধান সূচি

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

ভান্ডারিয়ায় চেয়ারম্যান পদে মিরাজুল ইসলামকে একক প্রার্থী ঘোষণা আওয়ামী লীগের ॥ জাতীয় পার্টির সমর্থন

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নামের তালিকা প্রেরণ ও দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত বাছাইয়ের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দৈনিক পিরোজপুর কন্ঠ পত্রিকার প্রকাশক মো. মিরাজুল ইসলাম (মিরাজ)কে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।

এদিকে, মহাজোটের শরীক দল উপজেলা জাতীয় পার্টি (জেপি) ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ঘোষিত একক প্রার্থী মো. মিরাজুল ইসলামকে সমর্থন জানিয়েছে।  এ উপলক্ষে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ভান্ডারিয়া উপজেলার ভিটাবাড়িয়ায় তারিন হোসেন কিন্ডার গার্টেন (কেজি) স্কুল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উপজেলা জাতীয় পার্টি (জেপি)’র এক বর্ধিত সভায় এ সমর্থন জানানো হয়।

গত ২৪ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইকড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, জনগণের রায় নিয়ে বিজয়ী হতে হলে মিরাজুল ইসলামের বিকল্প নেই। যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নেতাকর্মীদের মতামতের গুরুত্ব দিতে হলে মিরাজুল ইসলামকে অবশ্যই একক চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন করা উচিত। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. রশিদ মৃধা বলেন, সকলে একত্রিত হয়ে নির্বাচন করতে হলে মিরাজুল ইসলামের বিকল্প নেই।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি লিয়াকত হোসেন তালুকদার বলেন, বিজয়ের স্বার্থে তরুণ প্রজন্মের অহংকার মিরাজুল ইসলামের কোন বিকল্প প্রার্থী নেই।

জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজামুল হক নান্না বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান পদে খান এনায়েত করিম একটি আবেদন করেছেন। এই আবেদনকারী খান এনায়েত করিম ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী বিএনপি প্রার্থী এবং জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার আসামী নূরুল ইসলাম মঞ্জুর পক্ষে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ গ্রহণ করেছেন। তিনি ২০০৭ এর ১/১১ সেনা সমর্থিত সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করে ভান্ডারিয়াতে নিয়ে আসেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আপত্তি থাকা সত্বেও সংবর্ধনার আয়োজন করেন এবং সংবর্ধনায় অংশগ্রহণ করেন। যেহেতু আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা তাই মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে মিরাজুল ইসলামকে সর্মথন জানাচ্ছি।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক শাহ আউয়াল হিরু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও ভান্ডারিয়া হিন্দু- বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি বাবু কিরন চন্দ্র বসু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নাসির উদ্দিন সিপাহী, টুঙ্গিপাড়া আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. হাফিজুর রশীদ তারিক, পৌর আওয়ামী লীগ আহবায়ক শহিদুল আলম স্বপন, ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সেলিম, নদমুলা শিয়ালকাঠী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি এমরান হোসেন তালুকদার, তেলিখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. এমাদুল হক, ইকড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সোহরাব হোসেন মাতুব্বর, ধাওয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, গৌরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল আমিন শাহীন, উপজেলা যুবলীগ আহবায়ক এনামুল কবির টিপু তালুকদার, যুগ্ম আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন লিটন পেশকার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়াহিদ মান্নান উজ্জল, উপজেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম লাল, কৃষক লীগ সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম জোমাদ্দার, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এহসাম হাওলাদার।

বক্তারা মো. মিরাজুল ইসলামকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় একক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার জন্য মতামত প্রকাশ করেন।

সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের অবস্থা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে সুদৃঢ় ও শক্তিশালী। তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজুল ইসলামকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার দাবী জানানো হয়।

বর্ধিত সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগ, পৌরসভা আওয়ামী লীগ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, তাঁতী লীগ এর সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ মো. মিরাজুল ইসলামকে একক প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে রেজুলেশনে স্বাক্ষর করেন।

বর্ধিত সভার সভাপতি ও উপস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সকলকে হাত জাগিয়ে সমর্থন দেয়ার আহবান জানান। তিনি প্রথমে মিরাজুল ইসলামের নাম বলে কে কে তার পক্ষে আছেন, তখন সভায় উপস্থিত (২০৭) নেতা সকলে হাত উঁচু করে এবং কন্ঠ ভোটে মিরাজুল ইসলামকে সমর্থন দেন। অন্যদিকে, খান এনায়েত করিমের পক্ষে কন্ঠ ভোট সমর্থন চাইলে কেউ হাত তোলেন নি। এমন কি তিনি নিজেও বর্ধিত সভায় উপস্থিত ছিলেন না।

উক্ত বর্ধিত সভায় পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এম এ হাকিম হাওলাদার এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যায় ভান্ডারিয়া উপজেলার ভিটাবাড়িয়ায় তারিন হোসেন কিন্ডার গার্টেন (কেজি) স্কুল মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি (জেপি)’র এক বর্ধিত সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মিরাজুল ইসলামকে সমর্থন জানানো হয়।

ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন জেপির সভাপতি মো. আব্দুল হালিম শরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত বর্ধিত সভায় বক্তব্য রাখেন, জেপির উপজেলা সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. ছিদ্দিকুর রহমান টুলু, যুগ্ন আহবায়ক ও গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান চৌধুরী, যুগ্ন আহবায়ক ও পিরোজপুর জেলা পরিষদের সদস্য আ. হাই হাওলাদার, যুগ্ন আহবায়ক ও ভিটাবাড়িয়ার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, উপজেলা ছাত্র সমাজের সাবেক সভাপতি মো. মোস্তফা সিকদার, ইউনিয়ন ছাত্র সমাজের সভাপতি বুলবুল হাওলাদার, ইউপি সদস্য মো ফারুক জোমাদ্দার, শিক্ষক বিধান চন্দ্র চক্রবর্তী, সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাদল প্রমূখ।

সভায় বক্তারা বলেন, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভান্ডারিয়া উপজেলায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মিরাজুল ইসলামকে জাতীয়পার্টি (জেপি)’র পক্ষ থেকে সমর্থন দেয়া হয়েছে। তাই আসন্ন নির্বাচনে জেপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতা-কর্মীকে মিরাজুলের পক্ষে কাজ করার আহবান জানানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, মো. মিরাজুল ইসলাম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি ২০১১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ৮ বার পিরোজপুর জেলার শ্রেষ্ঠ আয়করদাতা নির্বাচিত হয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক পদক লাভ করেছেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial