ভান্ডারিয়ায় এতিমখানার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
ভান্ডারিয়া উপজেলাধীন ৫নং ধাওয়া ইউনিয়নের পশারীবুনিয়া আল মাদরাসাতুল মদিনা ও কারিগরি এতিমখানায় এতিম শুণ্য থাকার পরেও এতিমদের নামে সরকারি বরাদ্ধকৃত টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত বৃহস্পতিবার সরোজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ২৮ জন ক্যাপিটেশনপ্রাপ্ত ও ২৮ জন ঐ প্রতিষ্ঠানের মোট ৫৬ জন এতিম থাকার কথা থাকলেও একজনও পাওয়া যায়নি এবং ছাত্র থাকার কোন পরিবেশ নেই। সেখানে গরুর পানি গরম করার জন্য একটি পাতিল ও একটি ইটের চুলা আছে। তাছাড়া এতিমদের খাবার ও থাকার কোন আসবাবপত্রের চিহ্ন পর্যন্ত দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে অত্র এলাকার লোকজনের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, এখানে একটি এতিমখানা আছে তা আমাদের জানা নেই, তবে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ১০/১২ জন ছাত্র/ছাত্রীদেরকে আরবী শেখানো হয়। পরবর্তীতে যে যার বাড়িতে চলে যায়। ঐ প্রতিষ্ঠানে কোন এতিম থাকেনা এবং খাওয়া দাওয়া করে না।
এ ব্যাপারে ঐ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মাওলানা সবুর এর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত বছর কিছু এতিম ছিল। এ বছর মনে হয় ৪/৫ জন থাকতে পারে। বিল তোলার ব্যাপারে কথা হলে সভাপতি বলেন আমার কাছ থেকে চেকে অগ্রিম সই নিয়ে রেখেছে তা থেকে বিল উত্তোলন করে। তবে এ ব্যাপারে আমার কাছে অভিযোগ আসছে আমি অফিসের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিব।
এ সময় তিনি আরো বলেন, ঐ এতিমখানাটি রাজপাশা দাখিল বালিকা মাদ্রাসা সংলগ্ন ছিল। অনিয়মের কারণে এবং কমিটির সাথে দন্দ্বের কারণে প্রায় ২ বছর বন্ধ থাকে এবং প্রতিষ্ঠাতা রুহুল আমিন বিভন্ন তদবিরের মাধ্যমে পশারীবুনিয়া তার বাড়ীর সম্মুখে স্থানান্তর করেন। এ ব্যাপারে রুহুল আমিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কিছু বলতে ইচ্ছুক নই। এ বিষয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না। যা বলার ডিডির কাছে বলবেন।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জানান, ঐ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ আসে নি। আপনারা অবহিত করার কারণে আমি সরজমিনে উক্ত মাদ্রাসা তদন্ত করবো। উক্ত মাদ্রাসার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ নেয়া হবে।
এ বিষয়ে জেলা সমাজ সেবা অফিসার সন্তোষ কুমার নাথের কাছে মুঠোফোনে জানান, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার বিষয়টি দেখাশুনা করেন। কোন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
