নাজিরপুরে যৌতুকের দাবীতে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ
নাজিরপুরে যৌতুকের দাবীতে রহিমা বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূসহ তার ভাইকে পিটিয়েছে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত ওই গৃহবধূ ও তার ভাই রাজীব হাওলাদারকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার উপজেলার দেউলবাড়ী গ্রামে।
এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী নুরু মোল্লা, ভাসুর নেয়ামত মোল্লা, শ্বশুর জাহাঙ্গীর মোল্লা ও শ্বাশুড়ি রেসিয়া বেগমদের বিরুদ্ধে বুধবার দুপুরে নাজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই গৃহবধূর পিতা সুলতান হাওলাদার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দেউলবাড়ী গ্রামের সুলতান হাওলাদারের মেয়ে রহিমা বেগমের বিগত দুই বছর পূর্বে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক একই গ্রামের জাহাঙ্গীর মোল্লার ছেলে নুরু মোল্লার সাথে বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকেই রহিমাকে তার স্বামীসহ শ্বশুর-শ্বাশুড়ি ৩ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে। মেয়ের সূখের কথা চিন্তা করে মেয়ের বাবা তার জামাতাকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি গাভী দেয়। এর পরেও যৌতুকের দাবীতে তারা রহিমাকে শাররিক নির্যাতন করে বাবার বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়। গত মঙ্গলবার সকালে রহিমার স্বামীসহ ভাসুর ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ি রহিমার বাবা বাড়ীতে এসে তাদের দাবীকৃত যৌতুকের টাকা চাইলে রহিমার বাবার সাথে তাদের ঝগড়া হয়। এ সময় রহিমা তার বাবা পক্ষে আর যৌতুক দেয়া সম্ভব নয় বলে জানালে বাবার সামনেই তারা রহিমাকে মারধর করে। এ সময় রহিমার ভাই রাজীব তার বোনকে রক্ষা করতে গেলে তারা তাকেও মারধর করে। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুনিরুল ইসলাম মুনির লিখিত অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
