আমাদের স্বাধীন দেশের উপযোগী মন ও মানসিকতা থাকতে হবে … আনোয়ার হোসেন মঞ্জু
জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, আমাদের স্বাধীন দেশের উপযোগী মন ও মানসিকতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি ও প্রশংসা অর্জন করেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝেও দেশের এই আগ্রগতির ধারা সত্যিকার অর্থে একটি স্বাধীন দেশের বৈশিষ্ট্যেরই প্রতিফলন। দেশটা আমাদের সকলের বলে এই অগ্রযাত্রার সুযোগ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বুধবার পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা ও আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরও বলেন, আমাদের স্থানীয় সরকারগুলির নিজস্ব আয় না থাকায় প্রতিষ্ঠান গুলো আত্ম নির্ভরশীল হতে পারছে না। উন্নয়নশীল দেশে স্থানীয় সরকার নিজস্ব আয় থেকে ব্যয় নির্বাহ করে। কখনও ঘাটতি পড়লে তাদের কেন্দ্রীয় সরকার থেকে ধার-কর্জ আনা হয়। আমাদের দেশের বিকেন্দ্রিকরণের ধারণা বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদকে দায়িত্ব নিতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকার কেন সারাদেশের বিস্তারিত কাজের দায়িত্ব নেবে সে সম্পর্কে সবাইকে ভাবতে হবে। উপজেলা পরিষদসহ সকল স্থানীয় সরকারের নিজস্ব বার্ষিক পরিকল্পনা থাকা আবশ্যক। এলোমেলোভাবে প্রকল্প গ্রহণ করে তার বাস্তবায়ন অসমাপ্ত রাখা, গুণগতমান নিশ্চিত না করা, তদারকি-নজরদারীর ক্ষেত্রে শৈথিল্য কোন ক্রমে কাম্য নয়। প্রকল্প গ্রহণ ক্ষেত্রে জন গুরুত্ব, অপরিহার্যতাসহ মানুষের প্রয়োজনীয়তার দিকে দৃষ্টি রাখা উচিত। ব্যক্তি বিশেষ বা ব্যাষ্টি চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে শুধুমাত্র ক্ষুদ্র স্বার্থে জনতুষ্টির মোহে প্রকল্প গ্রহণ অনুচিৎ। এ ধরণের প্রবণতার মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাদ পড়ে যায়। প্রশাসনকে অবশ্যই শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া প্রয়োজন। সব ক্ষেত্রে আইন-কানুন, আচরণবিধি, নিয়ম নীতি মেনে চলতে হবে। প্রশাসনের চেয়ে প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী কেউ নয়। দুর্বলতা দূর করে তাদের দৃঢ়তার সাথে কাজ করতে হবে। জনপ্রতিনিধিরাও নিজস্ব ধারায় চলবেন। চেয়ারম্যান-মেম্বরদের ব্যক্তিগত ও ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক চিন্তা বা আদর্শ থাকতে পারে। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে সকলকে এক থাকতে হবে। অন্যদিকে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা যখন মিলেমিশে পরিকল্পনা করে প্রকল্প হাতে নেন তখন সেখানে সঠিকভাবে কাজ হয় না। এ ক্ষেত্রে জবাদিহিতার অভাব থেকে যায় ও প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত থাকার উদাহরণ সৃষ্টি হয়। গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো অসমাপ্ত রাখা কাম্য নয়। প্রণীত ও পেশকৃত উন্নয়ন প্রতিবেদনে সমাপ্ত প্রকল্পগুলোর সম্পর্র্কে যেমন উল্লেখ থাকে তেমনি অসমাপ্ত বা চলমান কাজেরও বিবরণ থাকা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে আমাদের দেশ আজ স্বাধীন, স্বাধীন দেশ উপযোগী আত্মবিশ্বাস থাকা বাঞ্চনীয়। আমাদের অন্ধকার যুগ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরও বলেন, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তর থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উন্নয়ন চাহিদাপত্র পাঠানোর পর তা আমাদের গোচরিভূত থাকা দরকার। অনেক সময় জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়নের সকল খাত সম্পর্কে অবগত থাকেন না বলে এ ক্ষেত্রে উপর থেকে বরাদ্দ আনা দুরূহ হয়। তাই স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন কাজ যথাযথভাবে সম্পাদনে যাতে যথাসময় ভূমিকা রাখতে পারি তার জন্য কাজের চাহিদা সম্পর্কে প্রাক ধারণা থাকা আমাদের প্রয়োজন।
ইন্দুরকানি উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে সভায় জানানো হয়। এছাড়া আগামী ২১ ফেব্রুয়ারী শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য ইন্দুরকানি উপজেলা পরিষদে গতকাল বুধবার বিকালে এক সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ইউএনও রাজীব আহমেদের সভাপতিত্বে এখানে আরও বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, ইন্দুরকানি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফায়জুল কবির তালুকদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদা বেগম, ইন্দুরকানি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মতিউর রহমান, উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপি’র সভাপতি আসাদুল কবির তালুকদার স্বপন, পত্তার্শী ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন হাওলাদার, পাড়েরহাট ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার বাবুল, বালিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন বয়াতী প্রমুখ।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এর আগে উপজেলা অডিটরিয়ামে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দুঃস্থ ও অসহায় মহিলাদের মধ্যে সেলাই মেশিন, সুবিধা বঞ্চিত অস্বচ্ছল পরিবারের মধ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ঢেউ টিন ও নগদ অর্থ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সুবিধা বঞ্চিত ব্যক্তিদের সংসদ সদস্যের মাঝে ঐচ্ছিক তহবিল হতে উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সুবিধা বঞ্চিত অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে বরাদ্দৃকত নগদ অর্থের চেক, ধর্ম মন্ত্রণালয় হতে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দকৃত নগদ অর্থের চেক এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।
এসব কর্মসূচিতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি’র সাথে ছিলেন ভান্ডারিয়া উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, টুঙ্গীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশীদ তারিক প্রমুুখ।
