হাইকোর্টের নির্দেশনা মানছেনা পৌর প্রশাসন ও ইজারাদাররা
ভান্ডারিয়ায় সড়ক ও মহাসড়কে টোলবাজী
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া পৌরসভায় সড়ক ও মহাসড়কে সরকারী আদেশের প্রতি তোয়াক্কা না করে যানবাহনের কাছ থেকে বেপরোয়াভাবে অতিরিক্ত টোল আদায় করছে পৌরসভার ইজারাদারদের লোকজন। এ অবৈধ টোল দিতে না চাইলে প্রায়ই পরিবহন শ্রমিকরা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সড়কে মহাসড়কে অতিরিক্ত টোল আদায়ে যাত্রীদের গুণতে হয় অতিরিক্ত ভাড়া। ভান্ডারিয়ায় সড়কে মহাসড়কে টোল আদায়ে হাইকোর্ট থেকে রুল জারি করা হলেও তা মানছে না পৌর কর্তৃপক্ষ এবং ইজারাদার।
টোল আদায়কারী ইজারাদার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সহ-সভাপতি মো. জুয়েল মৃধা। তিনি জবরদস্তি অতিরিক্ত টোল আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
টোল আদায়ে হয়রানী বন্ধে স্থানীয় মো. নেসার উদ্দিন জিহাদ মিয়া সম্প্রতি হাইকোর্টে রীট পিটিশন দাখিল করেন। ইজারাদার জুয়েলসহ ৭জনকে বিবাদী করে হাইকোর্টে ৭২৯৩নং রিট আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি ফাতেমা নাজিব ও বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজির বেঞ্চ গত ১৩ মে বিবাদীদের বিরুদ্ধে যানবাহন থেকে টোল আদায় কেনো বেআইনি নয়, এই মর্মে একটি রুল জারি করে। সেই আদেশ উপেক্ষা করে পৌরসভার ব্যস্ততম এলাকায় যানবাহন থামিয়ে দ্বিগুণ টাকা ধার্য করে জোর জবরদস্তি টোল আদায় করছে।
হাইকোর্টে রীট আবেদনকারি বলেন, আমি জনস্বার্থে তিনি এই রিট করেছি। বাংলাদেশে কোথাও দেখিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তা দিয়ে যে কোন পরিবহন চলাচল করতে হলে পৌর সভার টোল দিয়ে হয়। ভান্ডারিয়া শুধু পৌর টোল দিতে হচ্ছে। এ কারণে রিট করা হয়েছে।
জানা গেছে, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া পৌরসভা এলাকার সড়কে বিভিন্ন যানবাহনের কাছ থেকে টোল আদায়ের জন্য ভান্ডারিয়া পৌরসভার সাবেক প্রশাসক মো. ইয়াছিন আরাফাত রানা পৌর টোল আদায়ে শহরের ৬টি স্থানে ইজারা দেন। স্থানগুলো হচ্ছে- ভূবনেশ^র সেতুর দক্ষিণ পার ১১ লাখ ৫৮হাজার ৩৭৫ টাকা, এনায়েত খান সেতুতে ১৭ লাখ ৮২ হাজার ১২৫ টাকা, শহরের প্রাণকেন্দ্রের ওভারব্রীজের পশ্চিম পার ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, সোনার তরী কাউন্টারের সামনে ১২ লাখ ১৫ হাজার টাকা, আলফা মসজিদের সামনে ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৭৫০ টাকা, বাসষ্ট্যান্ড ৩১ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
ভান্ডারিয়া পৌরসভা দেশের দক্ষিণ জনপদের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপ‚র্ণ কেন্দ্র হওয়ায় দৈনিক ছোট বড় মিলিয়ে কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কেও প্রচুর যানবাহন চলাচল করে। ২০১৫ সালে ভান্ডারিয়া উপজেলা শহর পৌরসভায় রূপান্তরিত হওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর তারিখে ৪৬.০০.০০০০.০৬৩.৩১.০০২.১৩-২২৫৪ নম্বর স্মারকে টোল আদায় না করার জন্য একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কিন্তু সরকারি নির্দেশের তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে একটি সুবিধাবাদী মহল ইজারা নিয়ে টোল আদায় শুরু করে। প্রশাসন টোল আদায় বন্ধ করতে পারেনি। উপরোন্ত চলতি বছরের ২৫ মার্চ ভান্ডারিয়া পৌর প্রশাসক ভান্ডারিয়া উপজেলার রাজপাশা গ্রামের জুয়েল মৃধাকে পৌরসভার টোল আদায়ের ইজারা প্রদান করে। এরপর থেকে সড়ক পরিবহনে টোলের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে একটি মহল। দরিদ্র পরিবহন শ্রমিকরা এই অবৈধ টোল দিতে না চাইলে তাদের উপর জোর জবরদস্তি করা হয়। মাঝেমধ্যে টোল আদায়কারীদের কাছে নাজেহাল হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। সড়কে গাড়ি থামিয়ে ইচ্ছেমত টোল আদায়ে শহরের যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক দুলাল হোসেন বলেন, অবৈধ টোলের কারণে পরিবহনে বাড়তি ভাড়া গুণতে যে সাধারণ মানুষকে। সেই সাথে সড়কে হয়রানীর শিকার হন জনসাধারণ।
অথচ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ টার্মিনাল ছাড়া সব সড়ক ও সহাসড়ক থেকে টোলের নামে চাঁদা আদায় বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু প্রশাসন ও প্রভাবশালী ইজারাদাররা তা মানছেন না।
ভান্ডারিয়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার অবৈধ টোল উত্তোলনের বিষয় বলেন, আমি কর্মস্থলে অতি সম্প্রতি যোগদান করেছি। এখানে টোল আদায়ে পূর্বে ইজারা দেয়া হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা পেয়েছি। নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ টোলের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
