ভান্ডারিয়ায় আ’লীগ কার্যলয়ে হামলা, বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ॥ জড়িতদের গ্রেফতারের দাবী
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় আওয়ামী লীগ কার্যলয়ে হামলা চালিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের বাড়ি ও ব্যবসায়ীক অফিস হামল ভাংচুর এবং যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেত-কর্মীদের আহত করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ হামলাকারী জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) সমর্থিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবী করেন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী কার্যলয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ভান্ডারিয়া পৌরসভার প্রশাসক প্রশাসক মো. ফাইজুর রশিদ খসরু জোমাদ্দার।
এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতিসহ আ. রশিদ মৃধা, সহ-সভাপতি মো. লিয়াকত হোসেন তালুকদার, যুবলীগ সভাপতি মো. এনামুল কবির টিপু তালুকদারস উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, পিরোজপুর জেলার মধ্যে ভান্ডারিয়া উপজেলা একটি শান্তিপ্রিয় এলাকা। তবে সাম্প্রতিককালে মুক্তিযুদ্ধকালীন পিস কমিটির ভান্ডারিয়ার সাধারণ সম্পাদক ও ভান্ডারিয়া উপজেলার চিহ্নিত রাজাকার আশরাফ আলী তালুকদারের ছেলে উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপি (মঞ্জু) সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম উজ্জ্বল তালুকদার এবং তার অনুসারীরা শান্ত ভান্ডারিয়াকে অশান্ত করে তুলছে। জপির সাধারণ সম্পাদকের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বিএনপি ও জামায়াতের দোসরদের সাথে একাট্টা হয়ে আতিকুল ইসলাম উজ্জল তালুকদার তার পূর্ব পুরুষের ন্যায় মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে নানা রকম অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছেন। আতিকুল ইসলাম উজ্জ্বল তালুকদারের বড় ভাই ডা. রফিকুল কবির লাবু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক। তারা মূলত: জাতীয় পার্টি-জেপিকে ব্যবহার করে জামায়াত-বিএনপি’র রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, উজ্জল তালুকদারের নেতৃত্বে জেপি, জাতীয় যুব সংহতি ও জাতীয় ছাত্র সমাজের নেতা-কর্মীরা গত ১৭ এপ্রিল রাতে ভান্ডারিয়া উপজেলা সদরে উপজেলা খাদ্য গুদাম সংলগ্ন আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা করে চেয়ার টেবিল, আসবাবপত্র ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর করে। এ সময় তারা উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলামের বাসভবন ও ব্যবসায়িক অফিস ভাংচুর ও ৩টি মোটর সাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এসময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী এবং প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় পথচারীরা জাতীয় পার্টি-জেপির সন্ত্রাসীদের নিবৃত করতে গেলে অমানবিকভাবে তারা (জেপি) যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের উপর হামলা করে আহত করে। এতে উপজেলা যুবলীগের ১৫/২৬ জন নেতা-কর্মী আহত হয়। বর্তমানে মারত্ম আহত ৩ জন ছাত্রলীগ নেতা বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে।

তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার জন্য জাতীয় পার্টি-জেপির সংবাদ সম্মেলন থেকে দোষ দেওয়া হয়। মূলত: জেপির সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার হীন স্বার্থে এমন মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। আমরা এরূপ অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ঘৃনা জানাই। একই সাথে জেপির এই জগন্য কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাই এবং এ হামলা ও ভাংচুরের সাথে জড়িত জেপি নামধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মূলক বিচারের দাবী জানাই।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগ শান্তির দল। তাই জেপির বর্বোরচিত হামলার পরও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, নেতা-কর্মীদের আমরা শান্ত করে রেখেছি। আমরা কোন সংঘাত করতে চাই না। যাতে করে সাধারণ মানুষের জান-মালের কোন ক্ষতি হয়। তাই আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি। হামলা, ভাংচুর ও নেতা-কর্মীদের আহত করার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম মিরাজ বলেন, সব কিছুর সাথে আপোষ করলেও বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে কেউ অসম্মান করলে তাদের সাথে কোন আপোষ করবে না ভান্ডারিয়া আওয়ামী লীগ। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাই দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানাই। তিনি আরও বলেন, পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতরের কারণে আমরা এখনো মাঠ পর্যায়ে কোন কর্মসূচি দেই নি। কিন্তু যদি দ্রুত তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা না হয়, তাহলে ঈদের পর আমরা মাঠে নামতে বাধ্য হবো।
এদিকে, ভান্ডারিয়া থানার ওসি মো. আসিকুজ্জামান জানান, ভান্ডারিয়া উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা, ভাংচুর ও নেতা-কর্মীদের আহত করার ঘটনায় একটি এবং তেলিখালীতে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি।
উল্লেখ্য, ১৭ এপ্রিল বিএনপি নেতা (বর্তমানে কথিত জেপি নেতা) মির্জা গোলাম কিবরিয়া রিপনের তেলিখালী বাড়িতে জেপি নেতাদের ইফতার পূর্ব বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে কটুক্তি করায় প্রতিবাদ জানায় স্থানীয় ছাত্রলীগ। ইফতারের পরে জেপি নেতৃবৃন্দ ভান্ডারিয়া ফেরার পথে জেপি ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দসহ গ্রামবাসীদের সাথে তাদের ( (জেপি) বাকবিতান্ডা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এর জেরে ঐ দিন রাতের জেপি নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র¿ নিয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগ অফিসে ঢুকে ভাংচুর করে। অফিসে থাকা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। এসময় তারা অফিসের দেওয়ালে টানানো বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি টেনে নিচে ফেলে ভাংচুর করে। এরপর হামলাকারীরা উপজেলার কলেজ রোডে ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের বাসভবনে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। পৃথক এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের ২৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়।
