ভান্ডারিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ৬৮নং হাইস্কুল সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কতৃক ৫ম শ্রেণির প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থী সিয়াম হাওলাদারকে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করায় তার বিচারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে আবেদন করেছেন সিয়ামের বাবা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল হাওলাদার।
শুক্রবার দেয়া লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সজল কুমার রায় প্রায়ই সিয়ামকে মারধর করে। এমনকি বিভিন্ন সময়ে উচ্চস্বরে গালমন্দ করে মানসিক ভাবে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ সোহেল হাওলাদার উল্লেখ করেন, ৭/৮মাস পূর্বে মারধর করে ছেলের স্কুল ব্যাগ রেখে দেয় এবং বলে তোর বাবা মাকে ডেকে নিয়া আয় তার পর ব্যাগ দেয়া হবে। সোহেল হাওলাদার ও তার স্ত্রী স্কুলে গিয়ে ঘটনা জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন আপনার ছেলে তালা নষ্ট করে, দুষ্টুমি করে তাই মেরেছি। যেহেতু সরকারি প্রতিষ্ঠান তাই আমরা ছেলের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়ে ছেলের ব্যাগ নিয়া আসি। প্রধান শিক্ষক স্কুল শুরুর পূর্বে এবং ছুটির পরে স্কুলে বসেই প্রাইভেট পড়ায়। আর তার কাছে আমার ছেলেকে প্রাইভেট পড়তে না দেয়ায় সে (প্রধান শিক্ষক) প্রায়ই আমার ছেলেকে মারধর করে। শুধু আমার ছেলেই নয় আরো অনেক শিক্ষার্থীকে এভাবে মারধরের অভিযোগ আছে। গত বৃহস্পতিবার স্কুল চলা কালিন সময়ে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। প্রধান শিক্ষক বলেন ‘তোর এক পা ব্যাকা আর পা পিটিয়ে ভেঙ্গে দিব’। এসময় অনেক মারধর করে। আমি এবং আমাদের কিমিটির সভাপতি শিমুল রেজা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে মৌখিকভাবে ঘটনা জানালে তিনি লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলায় আমার চলে আসি।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি শিমুল রেজা এ প্রতিবেদক বলেন, আমরা শিক্ষা অফিসারের কাছে প্রাথমিকভাবে মৌখিক জানিয়েছি যেহেতু স্কুল ছুটি তাই খোলার পর লিখিত আবেদন দেব। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জালাল উদ্দিন খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুঠোফোনে এ প্রতিবেদকে বলেন, মৌখিকভাবে আমাকে জানানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন আক্তার সুমী বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেহেতু শিশুদের মারধর করা যাবে, এ ধরনের সরকারি নির্দেশনা থাকার পরেও এভাবে ঘটনা ঘটলে অবশ্যই সে বিষয়ে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সজল কুমার মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, ছেলেটা দুষ্টামি করেছে তাই একটু গালমন্দ করেছি।
