দোষীদের শাস্তির দাবি রাজনৈতিক দলের নেতাদের
পিরোজপুরে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে আগুন : দুই পুলিশ সদস্য ক্লোজড
পিরোজপুরে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার গভীর রাতে এ আগুনের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে দায়িত্ব অবহেলার কারণে দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে।
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, পিরোজপুর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে স্থাপিত জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে শুক্রবার গভীর রাতে লাগিয়ে দেয় দৃর্বৃত্তরা। আগুনে স্মৃতি স্তম্ভের কিছু অংশ পুড়ে ঝলসে গেছে। পরে আগুন আপনা-আপনি নিভে যায় বলে জানা গেছে।
শহীদ মিনার এলাকায় দায়িত্বরত পিরোজপুর পৌরসভার কর্মচারী সাদি সেখ জানান, শনিবার সকালে শহীদ মিনার এলাকায় এসে দেখেন স্মৃতি স্তম্ভে আগুনে পুড়ে কিছু অংশ কালো হয়ে গেছে। বিষয়টি সাথে সাথে পৌরসভার কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, রাতে শহীদ মিনার এলাকায় কেউ দায়িত্বে ছিলনা। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাত ২টার পরে যে কোন সময়ে এ আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে। স্মৃতি স্তম্ভের গায়ে একটা কাপড় লাগিয়ে তাতে আগুন দেওয়া হয়েছে, এ রকম চিহৃ পাওয়া গেছে। আগুনে স্মৃতি স্তম্ভের কাপড় লাগানো অংশ পুড়ে গেছে। পরে আবার এমনিতেই আগুন নিভে গেছে।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম জানান, জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে বিচারের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পিরোজপুর পুলিশ সুপার খাঁন মোহাম্মদ আবু নাসের জানান, ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যকে অবহেলার কারণে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্মৃতি স্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনার বিষয়ে মামলা দায়ের করা হবে। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করে পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত বলেন, এটি ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের কাজ। তারা বিগত দিনে সরকারে থাকা অবস্থায় নিজেরা বাসে অগ্নিসংযোগ করে, আগুন সন্ত্রাস করে তখন বিএনপি-জামায়াতের ওপর দোষ চাপাতো। এখন তারাই আবার বিভিন্ন স্থানে আগুন সন্ত্রাস করে দেশে একটা অস্থিরতা তৈরী করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।
এদিকে, পিরোজপুর জেলা শহরে অবস্থিত জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ এর পিরোজপুর পৌর শাখা নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম সরদার এবং সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ত্যাগের প্রতীক কোনো স্মৃতিস্তম্ভে হামলা দেশের মূল্যবোধ ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর আঘাতস্বরূপ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান তারা।
পিরোজপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ (অব:) তাফাজ্জল হোসাইন ও জেলা সেক্রেটারি জহিরুল হক। নেতৃবৃন্দ এই নেক্কারজনক ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অচিরেই আইনের আওতায় আনবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে, এ ন্যাক্কারজনক এবং নিকৃষ্ট কাজের জন্য পিরোজপুর ১, ২ এবং ৩ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী আলহাজ্ব মাসুদ সাঈদী, আলহাজ্ব শামীম সাঈদী এবং আব্দুল জলিল শরীফ তীব্র নিন্দা ও প্রকাশ করেছেন। এমপি প্রার্থীরা এ ধরণের জঘন্য কাজ যে বা যারাই করেছে, তাদেরকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অচিরেই চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
