পিরোজপুরে মানব পাচার মামলায় পাঁচজনের কারাদন্ড
পিরোজপুরে মানব পাচার মামলায় ৫ আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার পিরোজপুরের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মেহেদী আল মাসুদ এ রায় দেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ঘটিচোরা এলাকার মো. কুদ্দুস, হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল এলাকার মো. কাসেম ওরফে কাদের মোল্লা, চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি এলাকার রবিউল আলম ওরফে মানিক, নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার জামাল সিকদার ওরফে জিয়া এবং কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া এলাকার পলাশ চৌধুরী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিদের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। মঠবাড়িয়া থানার ২০১৪ সালের ৩ জুন মানব পাচারের এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি পিরোজপুরের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ছিল।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে প্রত্যেককে ১০ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়। অর্থদন্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ভোগ করতে হবে।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামি জামাল সিকদার ওরফে জিয়া এবং পলাশ চৌধুরী আদালতে উপস্থিত থাকায় তাদের সাজা পরোয়ানামূলে পিরোজপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাজা ঘোষণার দিন থেকেই তাদের দন্ড কার্যকর হবে।
অন্যদিকে, পলাতক তিন আসামি মো. কুদ্দুস, মো. কাসেম ওরফে কাদের মোল্লা এবং রবিউল আলম ওরফে মানিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার বা আদালতে আত্মসমর্পণের দিন থেকে সাজা কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া পলাতক আসামিদের সাজা পরোয়ানা জারি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন নারী ও শিশু অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট রহিমা আক্তার হাসি এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট মানস কুমার বৈরাগী।
