পিরোজপুরে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ : যুবক গ্রেফতার
পিরোজপুর পৌরসভার খামকাটা এলাকায় ৫ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা মো. হাফিজুল (২০) নামে ওই যুবককে আটক করে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। পরে ভুক্তভোগী শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানা-নানির সঙ্গে বসবাস করে এবং স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।
শিশুটির নানা মো. কামাল হাওলাদার জানান, শনিবার রাত ৯টার দিকে শিশুটির গোপনাঙ্গে ব্যথার কথা জানতে পারেন তার নানি। ব্যাথার কারণ জানতে চাইলে শিশুটি জানায়, শুক্রবার বিকেলে প্রতিবেশী হাফিজুল তাকে খামকাটা আবাসনের পাশে একটি পরিত্যক্ত অফিসের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে তার সঙ্গে ‘খারাপ কাজ’ করা হয়েছে বলে শিশুটি জানায়। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও শিশুটি জানিয়েছে বলে দাবি করেন তার নানা।
পরে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে তারা অভিযুক্ত হাফিজুলকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত যুবককে হেফাজতে নেয়। পরে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. স্বাগত হাওলাদার জানান, শনিবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে পুলিশ ৫ বছরের একটি শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। অভিভাবকরা শিশুটির ধর্ষণের শিকার হয়েছে বরে জানান। পরে শিশুটিকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। গাইনি বিভাগের চিকিৎসকরা পরবর্তী সময়ে শিশুটির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন।
অভিযুক্ত হাফিজুলের বাড়ি পিরোজপুর সদর উপজেলার নামাজপুর-ভাইজোড়া এলাকায়। তিনি মৃত ওয়ারেছ মল্লিকের ছেলে। হাফিজুল পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। সে মায়ের সাথে তার নানাবাড়ি পিরোজপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খামকাটা এলাকায় বসবাস করতো। তার নানা মৃত এস্কেন্দার আলী হাওলাদার।
পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, শনিবার রাতে একটি শিশুর সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে এলাকাবাসী আটকে রেখেছেন- এমন খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ভুক্তভোগী শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত হাফিজুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯ (১) ধারায় মামলা করা হয়েছে। রবিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
