স্কুল শিক্ষককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের : বিএনপি নেতা চাঁন গ্রেফতার
পিরোজপুর সদর উপজেলার জুজখোলা বহুমূখী সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপুল মৈত্রকে (৫২) হাতুড়ি ও লোহার রড় দিয়ে দুই পা এবং ডান হাত ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ৫টার দিকে পিরোজপুর-নাজিরপুর সড়কের পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের ঝরঝরিয়াতলা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। এসময় প্রধান শিক্ষক বিপুল মৈত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক অসিম কুমারকে নিয়ে নিজের মোটর সাইকেলযোগে স্কুল থেকে পিরোজপুরের বাসায় ফিরছিলেন। ঘটনার পর মারাত্মক আহত বিপুল মৈত্রকে উদ্ধার করে প্রথমে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।
প্রধান শিক্ষক বিপুল মৈত্রের ওপর হামলা, হাতুড়িপেটা ও মারধর করার ঘটনায় পিরোজপুর সদর থানায় শুক্রবার সদর উপজেলার শিকদারমল্লিক ইউনিয়নের বরজালা গ্রামের আবদুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে ৮জন নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬/৭ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা করেছেন।
পুলিশ এ মামলায় ১ নাম্বার আসামী পিরোজপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং সিকদারমল্লিক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সরদার কামরুজ্জামান চাঁনকে গ্রেফতার করেছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠান শেষে নিজের মোটর সাইকেলযোগে বিদ্যালয় থেকে পিরোজপুর শহরে ফেরার পথে পিরোজপুর-নাজিরপুর সড়কের ঝরঝরিয়াতলা নামক স্থানে ৭/৮ জন যুবক হেলমেটপড়া অবস্থায় ৩/৪টি মোটর সাইকেলযোগে এসে প্রধান শিক্ষক বিপুল মৈত্রের গতিরোধ করে। পরে তারা হাতুড়ি দিয়ে বিপুল মৈত্রকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। এতে তার দুই পা ও ডান হাত ভেঙে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সহকারী শিক্ষক অসীম কুমারও আহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে বিপুল মৈত্রকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সাবেক সদস্য এবং সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নেতা সরদার কামরুজ্জামান চাঁন ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিয়াউল ইসলাম খানের নির্দেশে এ হামলা চালানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম জানান, স্কুল শিক্ষককে হাতুড়িপেটা করে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় মামরা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামী কামরুজ্জামান চাঁনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
