রাজনীতির বহি:প্রকাশ ঘটে সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে : সাঈদ খান
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও দৈনিক কালের কন্ঠের যুগ্ম সম্পাদক হাফিজ আল আসাদ সাঈদ খান বলেছেন, রাজনীতি একটি সামাজিক সম্পর্ক, যার বহি:প্রকাশ ঘটে সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে। আপনি হিন্দু, আমিও হিন্দু-কারণ আমরা সবাই সিন্ধু সভ্যতায় বেড়ে উঠেছি। এখানে হিন্দু, মুসলিম কিংবা পাহাড়ি-আদিবাসী—সবাই একই রক্তের অধিকারী, একই মানচিত্রে এবং একই লাল-সবুজের পতাকার তলে ঐক্যবদ্ধ।
শুক্রবার পিরোজপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে বিএনপি নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।
সাঈদ খান বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবকে আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের উৎসবে পরিণত করতে হবে। প্রত্যেক বাড়িতে যেন উৎসবের ঢেউ ওঠে। তবে শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে যেন কেউ বিশৃঙ্খলার কারণ না হন। সনাতন ধর্মালম্বীরা নির্বিঘ্নে পূজা-অর্চনা করবেন, আর আমরা সমাজের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো। তবে নিরাপত্তা দিতে গিয়ে যেন আবার নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সেটিও লক্ষ্য রাখতে হবে।
সভায় পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত বলেন, ধর্ম থাকুক অন্তরে, মসজিদে আজান চলুক, মন্দিরে ঘন্টা বাজুক, এর প্রমাণ পিরোজপুর। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, আর পিরোজপুর তার উজ্জ্বল উদাহরণ। এখানে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও আটচালা বাড়ি মন্দির একই সীমানায় রয়েছে, তবুও কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অনেক আগেই বলেছেন- এই দেশে সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই, সবাই বাংলাদেশী।
পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে পূজা উদযাপন করতে অতিরিক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা বা বাড়তি মোটিভেশনের প্রয়োজন হবে না। মানুষ স্বত:স্ফূর্তভাবে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা করবে। পূজামন্ডপে বিএনপির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা না ঘটে।
সভায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এলিজা জামানসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
নেতারা বলেন, নবগঠিত জেলা বিএনপি কমিটি, আগের নেতৃত্ব ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ সবাই মিলে পিরোজপুরকে সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবে।
