প্রধান সূচি

পিরোজপুরে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা

নৌকার এজেন্টকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে একের পর এক নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ঘটেই চলছে। এবার জেলা মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের সভাপতি ফয়সাল আকনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার রাতে পিরোজপুর শহরতলীর মধ্য নামাজপুর এলাকার ইমরুল কায়েসের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গত ৭ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফয়সাল আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের এজেন্ট ছিলেন। আহত ফয়সাল আকন মধ্য নামাজপুর মো. মোফাজ্জেল আকনের ছেলে।
এদিকে, ফয়সালের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফয়সাল বাড়ি থেকে বের হলে মধ্য নামাজপুর গ্রামের ইমরুল কায়েসের দোকানের সামনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী সভাপতি একেএম আউয়ালের ঈগল প্রতীকের ক্যাডার সাইদুল ফকির, মিজান সিকদার, সাইদুল ফরাজী ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী জামালসহ আরও ১০/১২ জনের সন্ত্রাসী ধারালো দাও, চাইনিজ কুড়াল, জিআই পাইপ ও লোহার রড নিয়ে ফয়সালের ওপর হামলা করে এলোপাথারি কুপিয়ে আহত করে। এতে তার মাথা, কান, গাল, পিঠের নিচের অংশ ও হাতের আঙ্গুলসহ বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয় এবং পেটের ভুড়ি বের হয়ে যায়। এসময় ফয়সাল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায় সন্ত্রাসীরা। ঘটনার পর এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ফয়সালকে খুলনা প্রেরণ করে। পরে  শনিবার সকালে তাকে ঢাকা রেফার করা হয়। মূমূর্ষ অবস্থায় তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার আরিফ হাসান জানান, রোগীর অবস্থা শংকটাপন্ন। তার মাথা, গাল, পিঠের নিচে থেকে পাকস্থলির কিছু অংশ বের হয়ে আসছে। ডান হাতের পেশী পুরাপুরি কেটে গেছে। বাম হাতের তর্জনীর মাঝখানের অংশটা পুরোপুরি কেটে গেছে। এতে প্রচুর পরিমানে রক্তক্ষরণ হয়েছে। হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘটনার পর পরই শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ। এসময় সন্ত্রাসীদের মদদদাতাসহ দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়।


পিরোজপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ জুলফিকার বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভিকটিমের বাবার সাথে কথা বলেছি। হামলাকারীদের গ্রেফতারের জন্য আমাদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
নৌকা প্রতীকের এজেন্টকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শ ম রেজাউল করিম। তিন তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অবিলম্বে অপরাধীদের এবং তাদের গডফাদারদের গ্রেফতারের দাবী জানাচ্ছি। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়ে ফয়সালকে এজেন্ট করেছিলাম। নৌকার পক্ষে থাকায় আজ এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে ফয়সালকে। নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে। এই নিষ্পাপ, উচ্চ শিক্ষিত ফয়সালকে আমি সেদিন অনুরোধ করেছিলাম নৌকার এজেন্ট হতে। বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রার্থীর পক্ষে, বঙ্গবন্ধুর নৌকার পক্ষে ফয়সাল এজেন্ট হওয়া তার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী সভাপতি ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম আউয়াল বলেন, কারা কাকে মেরেছে সে বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। তবে এ ঘটনা কোন নির্বাচনী সহিংসতা বলে আমার মনে হয় না। এটা এলাকার ব্যক্তিগত কোন বিষয় নিয়ে হতে পারে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial