প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠীতে পঞ্চগ্রাম সম্মিলনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে ঘুষ কেলেঙ্কারী

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার সারেংকাঠি ইউনিয়নের পঞ্চগ্রাম সম্মিলনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একজন সহকারি প্রধান শিক্ষক ও তিনজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগে ঘুষ নেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইদুর রহমান মোল্লা ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছ থেকে ওই টাকা নিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান মোল্লা বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, বিদ্যালয়ের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামের কথায় নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছ থেকে ওই টাকা নিয়ে তার নির্দেশে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গির আলম ও ডিজির প্রতিনিধিসহ কয়েকটি জায়গায় ঘুষের টাকা ভাগবাটোয়ারা করে দিয়েছেন।
জানা গেছে, গত ২৯ নভেম্বর পঞ্চগ্রাম সম্মিলনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একজন সহকারি প্রধান শিক্ষক, একজন অফিস সহায়ক, একজন নিরাপত্তাকর্মী ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সে পরীক্ষায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সালাম মিয়ার ছেলে কাওসার হোসেন, স্থানীয় নাঈম, রাইসুল এর কাছ থেকে ১০ লাখ ৬৫ হাজার এবং সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত মো. গোলাম মোস্তফার কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ নেয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছ থেকে পাওয়া মোট ১৪ লাখ টাকার হিসাবের খরচ নিয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মধ্যে কথা উঠে। প্রধান শিক্ষক মো. সাইদুর রহমান নিয়োগের আদায়কৃত টাকা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গির আলম, ডিজির প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া একটি খরচের হিসাব দেখিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্যের সন্তান মো. কাজী কালাম অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে একজন সহকারি প্রধান শিক্ষকসহ তিনজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি নিয়োগে মোট বার থেকে ১৪ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে। সেই টাকা কোথায় কত খচর হয়েছে আমরা জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান ১০ লাখ টাকার একটা খরচ দেখিয়েছেন। যা আমরা কেউ মানিনা।
বিদ্যালয়ের সাবেক অভিভাবক সদস্য মো. গিয়াস উদ্দীন অভিযোগ করেন, এই বিদ্যালয়ের নিয়োগে প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান ১২/১৩ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। টাকা নিয়ে তিনি কি করেছেন তার সঠিক হিসাব দিতে পারছে না।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাইদুর রহমান মোল্লা বলেন, বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে মো. গোলাম মোস্তফা, এছাড়া তিনটি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি পদে নাঈম, কাওসার, রাইসুলকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সহকারি প্রধান শিক্ষক পদের জন্য আড়াই লাখ, অফিস সহায়ক পদে নাঈমের কাছ থেকে ৪ লাখ, পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে রাইসুলের কাছ থেকে ৪ লাখ এবং নিরাপত্তাকর্মী পদে কাওসারের কাছ থেকে ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকাসহ মোট ১৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। এই টাকা থেকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গির আলমকে সাড়ে ৪ লাখ, ডিজির প্রতিনিধিকে দেড় লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এছাড়া দুই লাখ টাকা ব্যাংকে আছে। বাকি টাকা কোথায় আছে তিনি তার কোন সদোত্তর দিতে পারেন নি।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial