আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল ও টিভি’র ব্যানারে চাঁদাবাজি
হলুদ সাংবাদিকতা ও লাইভ চৌধুরী ইস্যুতে সরগরম পিরোজপুর
পিরোজপুরে আন্ডারগ্রাউন্ড ও নাম সর্বস্ব পাত্রকা, অনলাইন নিউজ অনলাইন পোর্টাল ও ইউটিউব টিভি’র ব্যানারে চলছে দোদারছে চাঁদাবাজি। দেখার কেউ নেই। এক প্রকার ডিজিটাল কায়দায় হলুদ সাংবাদিকরা চাঁদাবাজি করছে।
পিরোজপুরে এখন চলছে লাইভের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি। লাইভের মাধ্যমে চাঁদাবাজি করেন বলে তিনি পিরোজপুরে লাইভ চৌধুরী নামে পরিচিত। সম্প্রতি এই সাংবাদিকের লাইভে এসে আত্মহত্যার অভিনয়ের ইস্যুতে তোলপাড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও। এই সাংবাদিকের তেমন কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই বললেই চলে। কিন্তু বিভিন্ন সরকারী অফিস, ঠিকাদারের কাজ, হোটেল রেষ্টুরেন্ট, মাদক ব্যবসায়ী প্রভৃতি থেকে মাসোহারা পান। ক্রাইমের কোন সংবাদ পেলেই সেখানে লাইভের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করেন।
বর্তমানে ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া বহুল আলোচিত কোন ঘটনা, সরকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান, স্পোর্টস, নতুন কোন কিছুর উদ্বোধন সাধারনত টেলিকাস্ট বা সরাসরি সম্প্রচার করার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তি বিশেষ বা প্রতিষ্ঠানকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া লাইভ বা সরাসরি সম্প্রচারে বিধি নিষেধ রয়েছে। কিন্তু লাইভ চৌধুরী সুকৌশলে বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে টাকা হাতিয়ে নেন। মিডিয়ার মোফাস্বর ডেস্ক টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে সামান্য কয়েক সেকেন্ড লাইভ উপস্থাপন করে ভয় ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করেন। কিছুদিন আগে একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে লাইভ চৌধুরী মোটা অংকের টাকা দাবী করেন। রেস্টুরেন্ট মালিক টাকা দিতে অস্বীকার করলে লাইভ চৌধুরী তাকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবসায়িক ক্ষতি ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেন। পরে ঐ রেস্টুরেন্ট মালিক লাইভ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকউরিটি এ্যাক্ট এ মামলা করেন। আদালতেও লাইভ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অত্যন্ত ধুরন্দর, ধান্দাবাজ, নারীলোভী, চাঁদাবাজ এই কথাকথিত সাংবাদিক লাইভে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে সুনামের সাথে সাংবাদিকতা করা পিরোজপুরের সাংবাদিকদের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। ৫০ বছরের ওপরের ঐতিহ্যবাহী পিরোজপুর প্রেসক্লাবে কোন সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে এসে মারধর করা হয় এমন কোন ধরণের নজীর নেই পিরোজপুরের সাংবাদিকদের মধ্যে। কিন্তু প্রেসক্লাবকে বিতর্কিত করতে প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা কল্পকাহিনী রচনা করেছে তথাকথিত সাংবাদিক নামধারী সাংঘাতিক লাইভ চৌধুরী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার বংশগত পদবী নিয়েও তার রয়েছে নানা মিথ্যাচার। পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার হোগলা বেতকা এলাকার জন্মগত পরিচয় দেওয়া এই লাইভ চৌধুরীর বংশ পরিচয় হচ্ছে সিকদার। তিনি সিকদার পরিবর্তন করে সেজেছেন চৌধুরী। আবার তার নাম নিয়ে আছে নানান গড়মিল। রয়েছে একাধিক নামে একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র। রয়েছে বিয়ে নিয়েও নানান কাহিনী। ৩০ বছর পেরোনোর আগেই মোটামুটিভাবে গোটা তি’নেক বিয়ে করে ফেলেছেন। এদিকে সেই তথাকথিত লাইভ চৌধুরী লাইভে আত্মহত্যার কাহিনী করেও বেশ চাঁদাবাজী করে তার পরেই গেছেন সমুদ্র বিহারে। তিনি সেই চাঁদাবাজির টাকায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গেছেন অভিসারে। তো বলেন তার (লাইভ চৌধুরীর) কি ছিল অভিলাশ। আসলে ও তো একটা ভন্ড। ওতো একটা প্রতারক। তো সাবধান পিরোজপুরবাসী এ ধরণের তথাকথিত লাইভদের প্রতি থেকে। কেননা এদের মতো তথাকথিত সাংবাদিকদের কাজই হলো শুধু টাকা হাতিয়ে নেওয়া। কেননা এই কথাকথিত লাইভ সাংবাদিক আবার নিজেকে ভূমিহীন বলে জেলা প্রশাসন থেকে একটা ভুমিহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঘর নিয়ে আবার সেটাও অন্যদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। স্বরূপকাঠী, পিরোজপুর, বাগেরহাটের মহিষপুরাসহ বিভিন্ন জায়গার মেয়েদের ফুসলিয়ে তাদের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়ে তাদের সাথে প্রতরণা করেছে।
পিরোজপুরের বেশ কয়েক জন সিনিয়র সাংবাদিক জানান, পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা অত্যন্ত সততা ও নিষ্টার সাথে এবং সচেতনতার সাথে সাংবাদিকতা করে থাকেন। আর একজন সাংবাদিক এতোটা আবেগপ্রবন হতে পারেন না- যে তাকে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিতে হবে। কোন সচেতন মানুষ কোন কারণেই আত্মহত্যা করতে যাবে না। আবার তাও লাইভে এসে… সকলকে দেখিয়ে…। এটা শুধুমাত্র অসচেতন, নির্বোধরাই করতে পারে। তারা কোন সাংবাদিক হতে পারে না। তারা কুলাঙ্গার। আর এদের কারণেই আজ সাংবাদিকতা নষ্ট হচ্ছে। প্রকৃত সাংবাদিকরা অসম্মানিত হচ্ছেন।
পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিউল হক মিঠু জানান, পিরোজপুর প্রেসক্লাবের ডেকে এনে কোন সাংবাদিককে মারধরের ঘটনা ঘটেনি। বিভিন্ন দপ্তরে চাঁদাবাজীর খবর পেয়ে একজনকে ডেকে এনে সাবধান করে দেওয়া হয়েছিল মাত্র।
এদিকে, পিরোজপুরে বিভিন্ন আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে কতগুলো ভুইফোড় সংগঠন। সামরিক বাহিনী হতে চাকুরীচ্যুত, বিদেশ ফেরত, ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক, ক্লিনিকের কেয়ারটেকার, কথিত মানবাধিকার কমিশনের কর্মীর মাধ্যমে একটি চক্র পিরোজপুরে চাঁদাবাজী করে চলছে। ভুইফোড় সংগঠন খুলে তাদের প্রধান কাজ মানুষকে ব্লকমেইল করে চাঁদাবাজি করা। পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে এরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সোর্স তৈরি করে মানুষকে হয়রানীতে ফেলে অর্থ আদায় করে।
কিছুদিন আগে শহরের স্বপ্ন আখতার (ছদ্মনাম) তার স্বামী অন্য একটি মেয়ের সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে যাওয়ায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক ঝামেলা বিরাজ করছিল। এমন সময় একদিন সকালে চারজন ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তাদের বাসায় আসে। তারা সমস্যার সমাধান করে দিবে বলে জানায় এবং ১০ হাজার টাকা দাবী করে। এ সময় স্বপ্না আখতার তার ছোট ভাই সুমনকে বাসায় ডেকে আনে। সুমন তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের দৈনিক গণআওয়াজ, দৈনিক জরুরি সংবাদ, নিউজ হাওয়ার ও একজন মানবাধিার কর্মী বলে পরিচয় দেয়। তখন সুমন বলে ভাই বিকেলে আপনারা আসেন আপনাদের টাকা দেয়া হবে। তারা চলে যাওয়ার পর সুমন বলে আপু এ সকল পত্রিকার নাম আমি কখনও শুনিনি। সুমন নিশ্চিত হওয়ার জন্য শহরের আলম বইঘর, পিয়াল এন্টারপ্রাইজ ও ওমর পেপার হাউসে গিয়ে এ সকল পত্রিকার কথা বললে পত্রিকা এজেন্টরা জানায় এগুলো আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা, এসকল পত্রিকা বাজারে পাওয়া যায় না এবং এগুলো পিরোজপুরে পত্রিকার দোকানে আসে না। এরপর বিকেলে ঐ সাংবাদিকরা ফোন করলে সুমন জানায় আপনাদের পত্রিকা আন্ডারগ্রাউন্ড, আপনারা কোন সাংবাদিক না। তখন ঐ সাংবাদিকরা সুমনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে।
পিরোজপুর জেলা তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) লেলিন বালা বলেন, প্রেসক্লাবের বাইরের সাংবাদিকদের কোন তালিকা তাদের কাছে নেই। কতজন সাংবাদিক প্রেসক্লাবের বাইরে আছেন তাদের কোন সঠিক পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই। শুধু প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের তালিকা তাদের কাছে আছে। প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা সব সময় তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে।
(আগামী পর্বে থাকছে : হলুদা সাংবাদিকতা ও চাঁদাবাজিতে লিপ্তদের ছবিসহ নামের তালিকা নিয়ে বিস্তারিত সংবাদ)
