করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে
পিরোজপুরে ঘরে থাকা নির্দেশনা মানা হচ্ছে না ॥ বৃদ্ধি পাচ্ছে যানবাহন চলাচল ॥ শ্রমজীবীদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
পিরোজপুরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ঘরে থাকা এবং সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা নির্দেশনা যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে না। সকাল থেকেই পিরোজপুর জেলা শহরে লোক সমাগম ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। যদিও এসব লোকজন হাট বাজারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হচ্ছে বলে দাবী করছেন। আর মুদি, কাঁচাবাজার, মাছ ও মাংসের বাজার, বেকারী’র দোকান খোলা থাকার সুবাদে শহরে প্রতিদিন লোক সমাগম বেড়েই চলছে। কাঁচা বাজারগুলোতে যেন মানুষ হুমরি খেয়ে পড়ছে কেনা কাটার জন্য। এখানে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার কোন নিয়মই মানা হচ্ছে না।
সোমবার জেলার নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার ইন্দেরহাটের মিয়ারহাট বাজার এবং স্বরূপকাঠী সদর বাজারে প্রচুর লোক সমাগম হয়েছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নের গ্রামীন হাট-বাজারগুলোতে সাপ্তাহিক হাটের দিনে প্রচুর লোক সমাগম হচ্ছে।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বশির আহম্মেদ জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনসাধারণকে সচেতন করা জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ প্রশাসন মাইকিং, লিফলেট বিতরণ করছে। সরকার ঘোষিত নির্দেশনা মেনে না চললে প্রশাসন আরও কঠোর হবে। 
এদিকে, জনসাধারণকে ঘরে থাকার সরকার ঘোষিত কর্মসূচির ৪ দিন যেতে না যেতেই শহরে রিক্সা ও ইজিবাইকসহ ছোট ছোট যানবাহন চলাচলের সংখ্যা বেড়ে গেছে। নিম্ন আয়ের এসব শ্রমজীবীদের জন্য সরকার এবং জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তথাপিও তারা রাস্তায় নামছে যানবাহন নিয়ে।
এদিকে, শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে পিরোজপুরে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। সোমবার ভোরে জেলা শহরের ক্লাব রোডে কাজের সন্ধ্যানে অপেক্ষমান দিনমজুরদের মাঝে চাল, ডাল, আলু, তেল ও লবনের প্যাকেট বিতরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বশির আহম্মেদ।
পিরোজপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর জেলার ৭টি উপজেলায় সরকারীভাবে ৫২০৮টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ৫২.১৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৩৩৮২টি পরিবারকে ২ লাখ ৪২ হাজার ১০০ টাকা প্রদান করা হচ্ছে।
এদিকে, করোনাভাইরাসের কারণে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় কর্মহীন হয়ে পড়া রিক্সা ও ভ্যান চালক, ইজিবাইক চালক, দিনমজুর, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১০ দিনের জন্য ১০ কেজি চাল, দুই কেজি আলু, এক কেজি ডাল, ১ লিটার তেল, ৫০০ গ্রাম লবনসহ সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার পৌঁছে দিচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজুল ইসলাম। তিনি প্রাথমিকভাবে উপজেলার ১০ হাজার শ্রমজীবী পরিবারকে এ খাদ্য সহায়তা দিচ্ছেন বলে জানান উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এহসাম হাওলাদার।
